>> এমপি লিটন হত্যা মামলায় কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র >> মানবতার দুশমন ইসরাইল ক্ষমাহীন শাস্তির মুখে পড়বে: উত্তর কোরিয়া >> তীব্র আক্রমণে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ১০ সৌদি সেনাকে উড়িয়ে দিল >> তুরস্কে আরও ৪০০০ সরকারী কর্মকর্তা চাকরীচ্যূত

সন্দেহ অমূলক নয়

mers virusদক্ষিণ কোরিয়ায় মারস (MERS) জীবাণুঘটিত রোগে ১৪ জনেরও বেশী প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত ১৪৫ বা তার বেশী। এদিকে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, আমেরিকা জীবাণু যুদ্ধের গোপন গবেষণাগার দ্বরা দেশটিকে ঘিরে ফেলছে। উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে, আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ঘাটি থেকে উত্তর কোরিয়ায় এ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছে।

গেল সপ্তাহে আমেরিকার জীবাণু যুদ্ধের সামরিক ঘাঁটির গবেষণাগার থেকে বিভিন্ন দেশের গোপন জীবাণু অস্ত্র তৈরীর গবেষণাগারে জীবন্ত এ্যানথ্রাক্স জিবাণু পাঠাতে গিয়ে ভুল করে নিজের ১৭টি রাজ্যেও পাঠিয়ে দেয়। এ খবর প্রকাশের সাথে আরও প্রকাশ হয়ে পড়ে যে জীবন্ত এ্যানথ্রাক্স জীবাণু কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পাঠানো হয়েছে।

২০১৪ সালে আফ্রিকাতে যখন ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ঠিক সেই সময় গিনিসহ চারটি দেশে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম চলছিল। দায়িত্বে ছিল মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)সহ কয়েকিাট এনজিও। একই সাথে সেই দেশগুলোতে তখন কয়েকশ’ আমেরিকান “পিস কোর” ভলান্টিয়ার কাজ করছিল। কিন্তু ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথম গিনিতে এমএসএফ-এর অফিসে হামলা হয় এবং জনতা কর্মীদের মারধর করে। তখন বলতে গেলে এমএসএফ সেখান থেকে পালিয়ে যায। একই ভাবে ভ্যাকসিনের সাথে জড়িত অন্যান্য এনজিওর উপরও হামলা হয়। গিনিতে এমএসএফ-এর উপর হামলার পরপরই “পিস কোরের” সমস্ত ভলান্টিয়ারকে বৌরকিনাফাসোতে জড়ো করে সেখান থেকে বিশেষ বিমানে করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ইবোলা আক্রান্ত দেশের মানুষ অভিযোগ করেছিল “ভ্যাকসিনেশন” শুরুর সাথে সাথে ইবোলা রোগের আবির্ভাবের সাথে কথিত ভ্যাকসিনের কোন সম্পর্ক রয়েছে।

এর আগে আমেরিকার বড় বড় জীববিজ্ঞানীরা একরকম স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে বলেছেন, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও যক্ষা রোগের টীকা তৈরী করতে গিয়ে আমেরিকার সামরিক জীবাণু গবেষণাগারে “এইচআইভি” তৈরী করা হয় এবং পরে ঐ টীকা পরীক্ষা করতে গিয়ে মানুষের দেহে “এইচআইভি” ঢুকে পড়ে।

মারস (MERS) ভাইরাস প্রথম দেখা দেয় সৌদি আরবে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে। তারপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার আগে মোট ২৪টি দেশে বিভিন্ন সময় এ ভাইরাস ও রোগ দেখা গিয়েছে। এ সবকটি দেশে প্রায় ১০০০ মানুষ আক্রান্ত হয় এবং কমবেশী ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। যে ২৪টি দেশে মারস ভাইরাস দেখা দিয়েছে তার সবকটি দেশেই কোন না কোন ভাবে আমেরিকার উপস্থিতি বা সংযোগ রয়েছে। সৌদি আরব এবং সংলগ্ন বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও আমিরাতে এতদ্বাঞ্চলের সব চেয়ে বড় বড় আমেরিকান ঘাঁটি রয়েছে।

এখন যারা সন্দেহ করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মারস ভাইরাসের বিস্তারে আমেরিকা জড়িত, তাদের সন্দেহ হয়তো অমূলক নয়।

বাংলাদেশনিউজ
১৪.০৬.২০১৫


Comments are closed.