>> ক্রাইষ্টচার্চে শেষ টেষ্টে মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস খেলতে পারছেন না >> রাজধানী ঢাকায় ‘মানবপাচার চক্রের’ ১৫ সদস্য গ্রেপ্তার >> ভারতের উত্তর প্রদেশে স্কুলবাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৮ শিশুসহ নিহত ২৫ >> মালিতে সেনাছাউনিতে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৫০ >> ইয়েমেনের সাবওয়াহ প্রদেশে সৌদি সমর্থিত ৩৭ মিলিশিয়া নিহত >> কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত >> চাঁদপুর মতলবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

সেই একদিনটা কবে আসবে তা বলা সত্যিই মুশকিল

BDN Editorialমানুষের প্রতি সামান্যতম সমীহ, শ্রদ্ধা, মমতা যার নেই, মানুষকে যে মানুষই ভাবে না, সে-ই ধর্ষক, চাঁদাবাজ, খুনী, পাচারকারী, হয়; বোমাবাজ, পেট্রোল-বামাবাজ হয়ে চলন্ত বাসে মানুষের উপর হামলা চালাতে তার আত্মা একুও কাঁপে না। চোখ বুজে যে কোন অপরাধ করে ফেলতে পারে। ফেসবুক এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লোক আছে যারা তাদের স্ট্যাটাসে, কমেন্টে অন্য লোক সম্পর্কে চোখ বুঁজে গালিগালাজ থেকে শুরু করে কুৎসিত মন্তব্য, বিশেষ করে অবজ্ঞা ও হেয় করার মত, চরিত্র হননকরী কথা লেখেন। হোক সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, প্রধান বিচারপতি বা নবনির্বাচিত মেয়র। নিজের পছন্দের, নিজের দলের বা নিজের পক্ষের না হলেই হ’ল। প্রশ্ন জাগে এরা নিজেদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে তাহলে কেমন আচরণ করেন?

একজন খুনীকে খুনী বলা যায়, ধর্ষককে ধর্ষক বলা যায়, রাজাকারকেও রাজাকার বলা যায়। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলে দেখব, একজন বিচারক আদালতে একজন খুনীকে “খুনী” বলে গালমন্দ করেন না। বিচারকার্য চলাকালে খুনীর বক্তব্যও ধৈর্য্যসহকারে শোনেন। এমন কি যখন আদালতে প্রশ্নাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়, বিচারক নিশ্চিত হন যে ঐ লোকটি বা লোকগুলিই খুনটি করেছে, তারপরও তিনি তাকে বা তাদেরকে গালমন্দ করেন না। কোন অভিযুক্ত অমাসীকে তুই-তোকারী করেন না, বরং আপনি বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু রায় ঘোষণার সময় তাঁর পর্যক্ষেণসহ শাস্তি ঘোষণা করেন, সেটা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদণ্ডও হতে পারে। এভাবে তিনি একজন মানুষ হিসেবে নিজের বিবেক, শালীনতা ও মূল্যবোধ এবং বিচারক হিসেবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচারেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারকগণ এই মূল্যবোধ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। অভিযুক্তদের রাজাকার বলে আদালতের ভিতরে গালমন্দ করেন না।

ফেসবুকে এরকম মন্তব্য যারা করেন, তাদের প্রায় ৩০০ জনের প্রোফাইল দেখে জানা গেল এরা প্রায় সবাই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং তারা হয় ছাত্র বা কোন পেশায় যুক্ত। আর কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী, তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা প্রভাবিত। তাদের এসব স্যাটাস ও কমেন্ট গুলোকে যদি আচরণ হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়, তাহলে ধারণা হওয়াটা স্বাভাবিক যে এরা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দল, কর্মক্ষেত্র বা সমাজ থেকে মানবিক মূল্যবোধ, শালীনতা ও আত্মমর্যাদাবোধের কোন শিক্ষা হয়তো গ্রহণ করতে পারেন নি। সব চেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এরা যখন ভবিষ্যতে সরকারী কর্মকর্তা হবেন, আইন-শৃঙাখলা বাহিনীর কর্মকর্তা হবেন, শিক্ষক হবেন, চিকিৎসক হবেন, বিচারক হবেন, স্থানীয় বা জাতীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি হবেন, মন্ত্রী হবেন, তখন দেশ এবং জাতি তাদের কাছে থেকে কী প্রত্যাশা করবে? যারা সংবাদিকতার মহান পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন কিন্তু দলান্ধ ভূমিকার জন্য অসভ্যতা, অশালীনতা প্রকাশ করছেন তাদের কাছেই বা সমাজ কী পাবে?

একদিন হয়তো জাতি হিসেবে আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হব, তবে সেই “একদিনটা” কবে আসবে তা বলা সত্যিই মুশকিল!

বাংলাদেশনিউজ
৩১.০৫.২০১৫


Comments are closed.