>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ভন্ডামী এ ভাবেই চলে

প্রতাপ কামাল

Mursi 1111মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত। মুরসি যে দলের বা যে মত-পথের অনুসারী হোন না কেন, তাঁর বিচারটি যে রাজনৈতিক সদ্ধান্ত দ্বরা প্রভাবিত এ বিষয়ে কোন সন্দেহের কারণ দেখি না এবং কোন সন্দেহ নেই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহংসা ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার। যদিও তার দল মুসলিম ব্রাদারহুড একটি চরম মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক দল, তারপরও কেউ কোন অপরাধ না করে কেবল মৌলবাদী দর্শনে বিশ্বাসী হলেই তাকে বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে, এটা নৈতিকতার কোন মানদন্ডেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে বাংলাদেশে। কাদের বিচার হচ্ছে? যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের। ১৯৭১ সালে যারা জামায়াতের বা তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের (এখন শিবির) সদস্য ছিল, কেবল মাতো দলের সদস্য হবার কারণে কী তাদের সবার বিচার হচ্ছে? না, তা হচ্ছে না। এটাই বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারে একটি নৈতিক অবস্থান। কিন্তু মিশরে কী হচ্ছে? এক মামলায় ১০০ বা ২০০ মানুষের ফাঁসির ঘটনা তো সবার চোখের সামনে। বোধ করি মিশরে যা হচ্ছে তা কারো কাছেই দুর্বোধ্য নয়।

মোহাম্মাদ মুরসির মৃত্যদন্ডের ঘটনায় আমেরিকা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, ইউ নিন্দা জানিয়েছে। সবাই জানেন ও বোঝেন, এই উদ্বেগ ও নিন্দা নিতান্তই কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিতকা। তারা যথার্থই উদ্বিগ্ন হলে মোবারক পরবর্তী মিশরের নির্বাচন দুই বার পিছানোর কোন কারণ থাকতো না এবং মুরসি বিরোধী সেনা অভ্যুত্থানটিই হ’ত না। নির্বাচনের আগে হিলারী ক্লিন্টন এবং সেনা অভ্যুত্থানের আগে জন কেরীসহ ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কর্মকমর্তাদের দৌড়ঝাঁপ কারো অজানা নয়।

মুরসির মৃত্যুদন্ডের আদেশটিকে হয়তো মিশরের বর্তমান শাসকরা কোন রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন কিংবা তাকে হয়তো সত্যি সত্যিই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিবেন। যেমনটা দেয়া হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভূট্টোকে।

ভূট্টোর যখন ফাঁসির আদেশ হয় তখনও আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশ শ্রেফ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু কেউই সত্যকার অর্থে ভূট্টোকে বাঁচাতে অগ্রহী হয়নি। একথা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, আমেরিকা বা চীন যদি সত্যিই ভূট্টোকে বাঁচাতে চাইতো তবে তারা ভূট্টোর ফাঁসি বন্ধ করতে পারতো।

অথচ এ কথা সবার জানা যে, পাকিস্তান যখন ভারতকে টেক্কা দিয়ে জামাল আব্দুন নাসের, জোসেফ টিটো এবং সোয়েকর্ণের সাথে হাত মিলিয়ে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমেরিকা ও বৃটেনের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন এই জুলফিকার আলী ভূট্টোই সে উদ্যোগে বাধা দিয়ে পাকিস্তানের আমেরিকার দুধে ভাতে পোষা অনুগত ভৃত্যের ভূমিকা চালিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি আমেরিকার সাথে যোগসাজসে আইয়ুব খানের সরকার থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন।

অপরদিকে প্রধান শত্রু আমেরিকার সাথে চীনের গোপন যোগাযোগ, জাতিসংঘের স্বীকৃতিলাভ, আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বিশেষ করে আমেরিকার ফরেন সেক্রেটারী হিনরী কিসিঞ্জারের গোপনে ঐতিহাসিক বেইজিং সফর- এ সব কিছুর স্থপতি ছিলেন ভূট্টো। সেই যোগসূত্র ধরে আমেরিকারসাথে চীনের “সুসম্পর্ক” ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক। যে বাণিজ্য আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনকে প্রধান শক্তিতে পরিণত করেছে। তাছাড়া ষাটের দশক থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের উপর চীনের প্রভাবের কথা কারো অজানা নয়।

তারপরও, পেছনে কার্যকারণ যাই থাক, আমেরিকা বা চীন কোন দেশ বা সরকারই ভূট্টোকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। নিছক “উদ্বেগ” প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করেছিল। মুরসির ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হবে। ভন্ডামী এ ভাবেই চলে!

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ২০.০৫.২০১৫


Comments are closed.