>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

সতীত্ব পরীক্ষা : বিচিত্র দেশের বিচিত্র আইন

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Indonesiaদেশের নাম ইন্দোনেশিয়া। দেশটি মুসলিম, কিন্তু বহু অমুসলিম সেখানে বসবাস করে। দেশটি মুসলিম, কিন্তু জাতীয় বিমান সংস্থার নাম হিন্দু দেবতা গঢ়ুড় দেবের নামে “গাঢ়ুদা এয়ারলাইন্স”। দেশটি মুসলিম, কিন্তু হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, আদিবাসী, প্রকৃতিপূজারী নির্বিশেষে সকল পুরুষকে “খাতনা” দেয়া দেশটির সামাজিক প্রথা। দেশটিতে একসময় আযান না দিয়ে ঢোল পিটিয়ে নামাজের জন্য ডাকা হ’ত।

সেই ইন্দোনেশিয়ার এক বিচিত্র আইন হ’ল “সতীত্ব পরীক্ষা”। দেশটির সরকারী সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীতে কোন নারী চাকরী করতে হলে তাকে সরকারী ডাক্তারদের কাছে “সতীত্ব পরীক্ষা” দিতে হয়। সরকারী চাকরীতে নিয়োগর জন্য নির্বাচিত হবার পর এবং পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীতে রিক্রুটমেন্টের পর “সতীত্ব পরীক্ষা” দিতে হয়। কেউ “সতীত্ব পরীক্ষায়” পাশ না করলে তাকে চাকরীতে নেয়া হয় না এবং রিক্রুট হলে নিয়োগ বাতিল করা হয।

এছাড়া পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীতে কর্মরত কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বিয়ে করতে হলে পাত্রী সম্পর্কে সরকার বা নিজ নিজ কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করতে হয়। তখন সরকারীভাবে পাত্রীর “সতীত্ব পরীক্ষা” করা হয়। পাত্রী “সতীত্ব পরীক্ষায়” পাশ করলে বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়, পাশ না করলে দেয়া হয় না।

এখানেই শেষ নয়! কেউ “সতীত্ব পরীক্ষায়” পাশ না করলে করলে, ব্যাভিচারের বিচারের জন্য তাকে “শারিয়াহ আদালতে” প্রেরণেরও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কাদের কারনে বা কাদের দ্বারা তাদের “সতীত্ব” হরণ হয়েছে তা অনুসন্ধান করা হয় না। বিশেষ করে নারী রিক্রুটদের সতীত্ব কোন উর্ধতন কর্মকর্তা দ্বারা হয়েছে কী না বা পূর্ব পরিচয় বা “ভাল লাগার” সূত্রে পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যদের যে সমস্ত বিয়ের প্রস্তাব আসে, সে ক্ষেত্রে “ভাল লাগার” সূত্রে “সতীত্বহরণ” হয়েছে কী না তাও অনুসন্ধান করা হয় না। কোন পুরুষ যদি “ভাল লাগা” পাত্রীর সতীত্ব হরণের দায় স্বীকার কতে তাহলে তারও চাকরী হারাতে হবে এবং শারিয়াহ আদালত মোকাবিলা করতে হবে।

কেন এই “সতীত্ব পরীক্ষা”? সাধারণ যুক্তি হ’ল- যারা বিয়ের আগেই স্বামীকে প্রতারণা করতে পারে, চরিত্রহীন, অসৎ ও অবিশ্বাসযোগ্য তারা সরকারী চাকরীতে ঢুকে সরকার ও দেশের সাথেও “বিশ্বাসঘাতকতা” করতে পারে। অপরদিকে চরিত্রহীন, অসৎ ও অবিশ্বাসযোগ্য লোকেরা (নারীরা) পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীতে চাকরী পেয়ে দেশের “নিরাপত্তার” জন্য বড় ধরনের “হুমকি” সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে। সারা বিশ্বের সামরিক চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই আইন বা বিধান রদ করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহবান জানিয় আসছে।

আগামীকাল ১৭ মে রবিবার সারা বিশ্বের সামরিক চিকিৎসকদের বিশাল একটি দল জাকার্তা আসবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইডোডো-এর সাথে সাক্ষাৎ করে এই অমানবিক ও অসম্মানজনক বিধানটি অবসানের আবেদন জানাতে।

বাংলাদেশনিউজ
১৬.০৫.২০১৫


Comments are closed.