>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

এত ভাল কী আসলেই ভাল?

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

BDN Editorial 1টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিতার সাথে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বাড়ী ফেরার পথে ডাকাতির নামে নৌকার নিয়ন্ত্রণ নেয় ডাকাত নামধারী একদল নরপিশাচ। তারা ঐ দুই কিশোরীকে তাদের পিতার সামনে গণধর্ষণ করে। সেই সাথে কিশোরীদের এক বান্ধবীর উপরও পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। তিন কিশোরীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় লোক জানজানি করবে কী করবে না এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। এর মধ্যে ধর্ষকদের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকিও আসতে শুরু করে। কিন্তু নৌকায় থাকা অন্যান্য যাত্রিদের মাধ্যমে বিষয়টি এলাকার মানুষ জেনে যায় এবং এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথিত ডাকাতদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এর মধ্যে প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে যায়। কিন্তু এলাকায় এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখে ভূঞাপুর থানা কিশোরীদের পিতার কাছ থেকে একটি অভিযোগ নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করে এবং নির্যাতিতদের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠায়। ঘটনাটি ঘটে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বা রাতে। মামলাটি হয়েছে ২৮ এপ্রিল ঘটনার ১৫দিন পর। মামলা দায়েরের চার দিন পর ২ মে শনিবার কথিত ডাকাত দলের সর্দার ধর্ষক নজরুলকে পুলিশ একই জেলার গোপালপুর উপজেলার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে রিম্যান্ড চাওয়া হবে।

জানা গেছে ধর্ষক নজরুলের নামে ভুঞাপুর থানায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানায় দু’টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। আরও জানা গেছে, নজরুল ও তার দলবল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, গোপালপুর, চৌহালি উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর, বেলকুচি ও চৌহালি উপজেলায় দাপটের সাথে নৌযানে ও বাড়িতে ডাকাতি করে আসছে। তারা যমুনায় নৌকার শ্যালো মেশিন ও পারাপারের সময় গরু ডাকাতি এবং ডাকাতির নামে নারী নির্যাতন করে থাকে। এত পরিচিত ডাকাত, যার নামে একাধিক থানায় একাধিক মামলা রয়েছে সে কী করে বছরের পর বছর গ্রেফতার না হয়ে দাপটের সাথে তার নৃশংস কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব কার?

১৩ তারিখের এই নৃশংস শিশু নির্যাতনের ঘটনা মুখে মুখে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। কারণ, নৌকায় আর যারা ছিলেন তাদের কেউ কেউ নজরুল ও তার দলের লোকজনকে চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু পুলিশ, যাদের এত সোর্স, গ্রাম পুলিশ আছে, তারা কেন জানতে পারলো না? ১৫ দিন পরে মামলা হবার আগে পুলিশ কেন সক্রিয় হ’ল না?

এই কিছু দিন আগের কথা। সিলেট শহরে এক পুলিশ কনষ্টেবল এবং পুলিশের এক সোর্স দু’জনে মিলে এক কিশোরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে না পেরে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় শুধু সিলেট নয়, সারা দেশেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর বহু পুলিশ ও কর্মকর্তা দায়িত্বশীলতার সাথে কর্তব্য পালন করে থাকেন, মানুষকে সেবা দিয়ে থাকেন। তারা জাতির কাছে প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু তাদের মধ্যে জেলায়-জেলায়, থানায়-থানায় দুই একজন “ক্রিমিনাল পুলিশ” যে নেই তা তো নিশ্চিতভাবে বলা যাবেনা! স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তা যদি না হবে তাহলে এতদিন নজরুলের “শুভাকাঙ্খী”, “রক্ষক”, “পৃষ্ঠপোষক” হয়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিল কারা? পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে তার যদি কেউ নাই থাকে তবে তার রক্ষকের ভূমিকা পালন করতো কারা?

এখন সারাদেশে বড় মাপের কোন সন্ত্রাসী বা অপরাধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ধরা পড়লে সাধারণতঃ যা হয়ে থাকে, নজরুলকে নিয়ে কিন্তু তা হচ্ছে না। যেমন, তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ কোথাও যাচ্ছে না (নজরুলের সহযোগিরা পুলিশের উপর হামলা করছে না, কোন প্রকার গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে না, কেউ আহত বা নিহত হচ্ছে না)। অথচ সবাই জানে নজরুলের এই বিশাল ডাকাত দলের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে। তারপরও পুলিশ কেন নজরুলের মত একজন মহা মন্ত্রাসীর অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা না করে, তাকে কেবল একজন সাধারণ ধর্ষকের মত ট্রিট করছে? কেউ তো এমন ভাবতেও পারেন যে, নজরুলকে আদালত ঘুরিয়ে রিম্যান্ডে আনার এক প্রকার অর্থ হ’ল তাকে বরং রক্ষা করা। আদালতের নির্দেশে রিম্যান্ডে আনা আসামীকে নিয়ে তো “অস্ত্র উদ্ধারে” যাওয়া যাবে না, কারণ, যদি তার কোন ক্ষতি হয় তখন তো পুলিশ বাহিনীর “মহা বাদনাম” হয়ে যাবে।

তাহলে ধরে নিতে হবে আমাদের পুলিশ বাহিনী অতি মাত্রায় ভদ্র ও সুশীল হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। সেটা হলে অবশ্যই ভাল কথা, কিন্তু প্রশ্নন হল- এত ভাল কী আসলেই ভাল?

বাংলাদেশনিউজ
০৩.০৫.২০১৫


Comments are closed.