>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

মুসলিম জঙ্গী প্রসঙ্গে ব্রিটেন এবং ইউরোপ তাদের দায় এড়াতে পারে না

প্রতাপ কামাল

european_unionব্রিটেনসহ ইউরোপ থেকে কমবেশী আট থেকে দশ হাজার তরুণ-তরুণী ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক এস্টেট এবং আলকায়দায় যোগদান করেছে। এ তথ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং

বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সরকার প্রদত্ত। তাছাড়া ইউরোপে তাদের হাজার হাজার সংগঠক ও সমর্থক রয়েছে। এদের নিয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তাদের মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের মোকাবিলায় ইউরপীয় দেশগুলোর বর্তমানে চলমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে আটক রাখা। সেই সাথে আছে অকথ্য নির্যাতন করা। ক্ষেত্র বিশেষে মামলা দিলেও তা ঝুলিয়ে রাখা যা প্রকৃত বিচারে সেই বিনা বিচারে আটক রাখার মতই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের দেশের মুসলিম জঙ্গী-সন্ত্রাসী নাগরিকদের ধরে আমেরিকার হাতে তুলে দিচ্ছে। তবে ব্রিটেন আর একটি কাজ করছে। সেটি হল এধরণের মুসলিম জঙ্গী-সন্ত্রাসী নাগরিকদের তাদের পূর্ব পুরুষদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে, ব্রিটেনসহ ইউরোপের দেশগুলো মুসলিম জঙ্গী মোকাবিলার কৌশল হিসেবে তিনটি পদক্ষেপের কথা ভাবছে। প্রথমতঃ এ ধরণের মুসলিম জঙ্গী চিহ্নিত হলে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে নাগরিকত্ব বাতিল করা; দ্বিতীয়তঃ ইউরোপের বাইরে থাকলে তাদেরকে আর উউরোপে প্রবেশ করতে না দেয়া; তৃতীয়তঃ যাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে এবং যারা বাইরে থেকে এস আবার কোনভাবে ইউরোপে ঢুকে পড়বে, তাদেরকে পূর্বপুরুষের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া।

এখন প্রশ্ন হ’ল এদের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের ঝান্ডাধারী ইউরোপের মানবাধিকার তত্বের কী হবে? ইউরোপীয় কোর্টের সিদ্ধান্ত কী কবে? যারা ১৮ বছর পূর্ণ হবার পর ব্রিটেন বা ইউরোপে গিয়েছে তাদের না হয় পূর্বপুরুষের দেশে (country of origin) ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হ’ল। কিন্ত যাদের জন্ম ব্রিটেন বা ইউরোপের মাটিতে, হোক সে যে কোন বর্ণের বা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, তারা তো জন্ম সূত্রে ব্রিটেন বা ইউরোপের নাগরিক। তাদের কোন ক্ষমতাবলে, কোন অধিকারে, কোথায় পাঠানো হবে? পূর্ব পুরুষের দেশ তাদের নেবে কেন? যাদের জন্ম ব্রিটেন বা ইউরোপে এবং যারা শিশু অবস্থায় সেখানে গিয়েছে তারা তো ব্রিটেন ও ইউরোপের শিক্ষা ব্যবস্থায়, সেখানকার সমাজে বেড়ে উঠেছে। বিটিশ বা ইউরোপীয় সমাজে জন্ম নিয়ে, সেখানে বসবাস করে, সেখানকার শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ হয়ে যদি কেউ বিপথগামী হয়, জঙ্গী বা সন্ত্রাসী হয়- তাহলে সে ব্যর্থতা কার? সে দায় কার? নিজের দেশের নাগরিকদের মানুষ করতে না পারা এবং মেইন ষ্ট্রীমে ইন্টেগ্রেট করতে না পারার দায় কী ব্রিটেন বা ইউরোপ এড়াতে পারে?

এ বাইরেও তো অনেক প্রশ্ন আছে। কারা কমিউনিষ্টদের মোকাবিলার নামে সারা বিশ্বে ধর্মীয় মৌলবাদ উস্কে দিয়েছিল? কারা তাদেরকে সোভিয়েত কমিউনিষ্টদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ করতে আফগান যুদ্ধে পাঠিয়েছিল? কারা তাদের ইরাক ও সিরয়ায় পাঠিয়েছে? কারা অর্থ ও অস্ত্র দিয়েছে? কারা তাদেরকে প্রায় তিন দশক ধরে ব্রিটেন ও ইউরোপ থেকে ধর্মের নামে অর্থ সংগ্রহ করতে দিয়েছে? কারা দীর্ঘ দিন সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর কী ব্রিটেন ও ইউরোপকে দিতে হবে না?

ইতোমধ্যে ব্রিটেন কিছু মুসলিম জঙ্গী সন্ত্রাসীকে পাকিস্তান, আফগান্তিানসহ কয়েকটি দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এটা ব্রিটেন করতে পেরেছে তার সামরিক পেশী শক্তির জোরে এবং দুর্বল ও দরিদ্র দেশগুলোর অক্ষমতা ও ভীতিকে কাজে লাগিয়ে। তা নাহলে ব্রিটেন যা করেছে তা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একদম বেআইনী। একটি দেশ কখনো তার দেশের ক্রিমিনালদের আর এক দেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারে না। বর্তমান ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করলে ইউরোপকে হয় নির্লজ্জের মত মানবাধিকারের বিষয়গুলো অস্বীকার করতে হবে, না হয় বড় ধরণের শাসনতান্ত্রিক জটিলতার মুখে পড়তে হবে।

ইউরোপে মুসলিম জঙ্গীবাদের উদ্ভব ও বিকাশে ব্রিটেন এবং ইউরোপ তাদের দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশনিউজ
২৮.০৪.২০১৫


Comments are closed.