>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

প্রধান বিচারপতির আহবান খুবই প্রণিধানযোগ্য

BDN Editorialমহামান্য প্রধান বিচারপতি বর্তমানে বিচারাধীন ৩০ লাখ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে মমলাজট সহনীয় পর্যায়ে আনার অঅহবান জানিয়েছেন। শনিবার সুপ্রিমকোর্টের অডিটোরিয়ামে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় তিনি এ অঅহবান জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করতে না পারলে আগামী এক বছরে বিচারাধীন মামলা সংখ্যা ৩০ লাখ থেকে বেড়ে ৪২ লাখে দাঁড়াবে।

যথার্থই সকল আদালতে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হওয়া আবশ্যক এবং সেটা ন্যায়বিচারের স্বার্থেই। একটি বিচারাধীন মামলা চলাকালে বিচারক বা বিচারপতির পরিবর্তন হলে যেমন ন্যায়বিচার ব্যাহত হতে পারে, তেমনি বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতা কিংবা একটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া আট-দশ বছর বা তারও বেশী সময় পর শুরু হলেও বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে।

এছাড়া, দ্রুত নিস্পত্তির পাশাপাশি গুরুত্ব বিচারে কিছু মামলা আদালতের কার্যতালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থান পাওয়া প্রয়োজন। নিম্ন আদালতে কিছু কিছু মামলা দ্রুত বিচারের জন্য ‘দ্রুত বিচার আদালত’ (Fast Track Court) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালতে সে ব্যবস্থা নেই। সে কারণে উচ্চ আদালতে নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদালতের কার্যতালিকায় আনা জরুরী।

যেমন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। তারপর মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচারকার্য শুরু হলেও পরে আবার তা বাধাগ্রস্ত হয়। এখন স্বাধীনতার ৪৩-৪৪ বছর পর সে প্রকিয়া শুরু হয়েছে। অনেকগুলি মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক ঘোষিত হলেও এখন সেগুলো উচ্চ আদালতে আপীল বা রিভিউ শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাইবুনাল থেকে উচ্চ আদালতে যাওয়া মামলাগুলির মধ্যে বেশ কম সংখ্যকই এ পর্যন্ত চুড়ান্ত নিস্পত্তি হয়েছে। কাজেই বিচারাধীন অনিস্পত্তিকৃত মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যতালিকায় আনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলাগুলি সাধারণ মামলার মত আপেক্ষমান থাকা বা মামলা জটের কারণে ধীর গতিতে চলা বাঞ্ছনীয় নয়। এক্ষেত্রে বিচারপতিগণের ভূমিকা অতীব গুরুতা্পূর্ণ। তাদেঁর সক্রিয় বিবেচনা এ ক্ষেত্রে মামলাগুলির দ্রুত চুড়ান্ত নিস্পত্তি নিশ্চিত করতে পারে।

তাই একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলাগুলির প্রেক্ষিতে, মহামান্য প্রধান বিচারপতির আহবান খুবই প্রণিধানযোগ্য!

বাংলাদেশনিউজ
১৩.০৪.২০১৫


Comments are closed.