>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

বিজুকে ঘিরে পাহাড়ে উৎসবের মেলা

মফস্বলডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Biju Festivalপার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১৪টি নৃগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজুকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে পাহাড়ি জনপদ। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই পার্বত্য তিন জেলা এখন যেন উৎসবের নগরী। পাহাড়ের সব জায়গায় বইছে আনন্দের বন্যা। সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমপ্রীতির মিলন ক্ষেত্র। বসানো হয়েছে মেলা আর উৎসবের আসর। মেলায় চলছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-সঙ্গীত, খেলাধূলা এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও পণ্য প্রদর্শনী।

এবার উৎসবটিকে ঘিরে রাঙামাটির জেলা, উপজেলা ও গ্রাম ভিত্তিক আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন। রাঙামাটি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী পার্বত্য সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলা শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার বিকাল ৪টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার ফিতা কেটে এ মেলা উদ্বোধন করেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকামর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন, রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট ভারপাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা প্রমুখ।

এদিকে, ৩ দিনব্যাপী পার্বত্য সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলাকে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে ব্যাপক ও বর্ণিল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মেলা উদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে ৪টায় চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, ৫টায় শিশু কিশোরদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা প্রতিযোগিতা।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাহাড়িদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবেশনা করবেন, মারমা, খিয়াং, লুসাই ম্রো ও চাক। এছড়া রাত ৮টায় চাকমা নাটক চান্দবী পরিবেশন হবে।

আগামীকাল রবিবার বিকাল ৩টায় আবারও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও পাংখোয়া শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আগামী সোমবার বিকাল ৪টায় ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না প্রতিযোগীতারা মধ্যদিয়ে শেষ হবে তিন দিন ব্যাপী পার্বত্য সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলা।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১ভাষাভাষি ১৪টি ড়্গুদ্র ড়্গুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাইন-বৈসু-বিষুকে ঘিরে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।পাহাড়ের জাতিগোষ্ঠীদের নিজস্ব নিয়মে বৈসাবী পালন করে থাকে। বিভিন্ন সমপ্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রনে বৈসাবী এক বৈচিত্রময় রূপ ধারন করে। নানান কর্মসুচির মাধ্যমে বৈসাবী আনন্দে মেতে উঠে অঞ্চলের পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৮ সালে প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলা শুরু করা হয়। সে থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রথা চালু রয়েছে। প্রতি বাছর চৈত্র মাসে পাহাড়ে বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ ও বৈসাবি উৎসব পালন হয়ে থাকে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ০৫.০৪.২০১৫


Comments are closed.