>> শনিবার সকালে উত্তর কোরিয়া আবার ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে >> বিচার প্রার্থীদের প্রতি আরো মানবিক হতে বিচারক ও আইনজীবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান >> ৪৭ দিন পর হিমালয় থেকে জীবন্ত উদ্ধার নিখোঁজ অভিযাত্রী >> ঝালকাঠিতে পিস্তল ও গুলিসহ ১ জন আটক >> কুমিল্রায় মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনায় দুই ভাই নিহত

মোবাইল সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা

জামিল খান, মস্কো, রাশিয়া

pic_2শুরুতে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। আগামী ৫ বছরে বিশ্বে আরো ১ বিলিয়ন নতুন মোবাইল ফোনের গ্রাহক তৈরী হবে যা কিনা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাকে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়নে নিয়ে যাবে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় শেষ হওয়া বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবার যদি আমাদের দেশের দিকে তাকাই তাহলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, গতবছরের ডিসেম্বরের শেষে দেশের মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা পোঁছায় ১২ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার। বাংলাদেশের সবকটি

মোবাইল অপারেটরা তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট প্রযুক্তি (থ্রিজি) সুবিধা দেওয়ায় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের গণমাধ্যমগুলো তাদের কন্টেন্ট পরিসেবা আরো বাড়াতে পারে। চর্চা করতে পারে মোবাইল সাংবাদিকতা।

একজন সাংবাদিক যিনি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের কাজ করে থাকেন তাকেই মোবাইল সাংবাদিক বা সংক্ষেপে মোজো বলা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ জানিয়েছেন, ‘দেশে এখন শুধু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটির উপরে। আর ৩৫ বছরের নিচে তারুণ্যের সংখ্যা ৫ কোটির বেশি।’ অর্থাৎ স্মার্টফোনের কদর আগামী দিনে আরো বাড়তে থাকবে। সাধারণত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা পচ্ছন্দের অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও বানানো, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ভিজিট করা অথবা ইন্টারনেটে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান ও কথা বলার জন্য ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া স্মার্টফোনের সাহায্যে আজ গণমাধ্যমের সংবাদ জানার কাজ আগের চেয়ে অনেক সহজতর হয়েছে। তবে স্মার্টফোন এখন আর এসব কাজের মধ্যেই থেমে নেই। অনেক বড় বড় কাজই করা হচ্ছে স্মার্টফোন দিয়ে। পশ্চিমা বিশ্বের নামিদামী গণমাধ্যমের বার্তাকক্ষে সংবাদ পৌঁছে দিতে স্মার্টফোন নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে। এই যেমন বিবিসি গত সাত দিন তাদের প্রযুক্তি বিষয়ক অনুষ্ঠান ক্লিকসহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পুরোটাই ধারণ ও সম্পাদনার কাজ করেছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে। গণমাধ্যমের গতি-প্রকৃতি ও বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরী হয়েছে অনেক উপকারী অ্যাপ। এখন অনেক গণমাধ্যমই তাদের ওয়েবসাইটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপ বানানো ও এর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

pic_1বাংলাদেশে মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ সংগ্রহ কিংবা সম্পাদনার কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে নাগরিক সাংবাদিকদের পাঠানো মোবাইল কন্টেন্ট (ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট বা ইউজিসি) ব্যবহারের দিক দিয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে দেশের অনলাইন গণমাধ্যম। আজকাল অবশ্য কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইউজিসি কন্টেন্ট প্রচার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত দূর্ঘটনার বিশেষ মূহুর্ত মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন নাগরিক সাংবাদিকরা। উদাহরণ হিসেবে পদ্মা নদীতে পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবি ও রানা প্লাজা দূর্ঘটনার কথা বলা যেতে পারে। এই দুটি ঘটনারই মোবাইল ভিডিও ফুটেজ দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় টেলিভিশন ও শীর্ষ অনলাইন পত্রিকাগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়।

সাংবাদিকতা পেশায় স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার এবং এ কাজে ব্যবহার উপযোগী অ্যাপ ও আনুসাঙ্গিক উপকরণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর কোর্স চালু হয়েছে। বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা অনেক সাংবাদিকতা ইনস্টিটিউটে পড়ানো হচ্ছে বিষয়টি। গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সভা-সেমিনার।

মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর নিয়মিত গবেষণা ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার সংস্থা আরটিই। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে মোবাইল সিনেমা নির্মাণ, মোবাইল সাংবাদিকতা ও মোবাইল ফটোগ্রাফির ওপর প্রথম আন্তর্জাতিক মোবাইল সাংবাদিকতা সম্মেলন দেশটির রাজধানী ডাবলিনে আগামী ২৭-২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মোবাইল সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন বিশ্বের এমন অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া গবেষকরা এতে যোগ দিবেন। দুইদিনের এ সম্মেলনে তিনটি

সেশন ছাড়াও দুটি কর্মশালার আয়োজন থাকছে। মোবাইল সাংবাদিকতার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা আয়ারল্যান্ডের আসন্ন এ সম্মেলনকেই বিশ্বের প্রথম মোবাইল সাংবাদিকতা সম্মেলন বলে জানিয়েছেন। একজন সাংবাদিক স্মার্টফোন ব্যবহার করে কিভাবে হয়ে উঠতে পারেন মোবাইল সাংবাদিক আর এর জন্য তাঁর করনীয় বা কি এমন খুঁটিনাটি সবকিছুই এই সম্মেলনে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সম্মেলন উদ্যোক্তা গেলেন মুলচাহি।

বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতা চর্চার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে এখনও তা পুরোপুরি বিকাশ লাভ করতে পারেনি। খোদ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেও তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি নতুন ধারার এই সাংবাদিকতা। গণমাধ্যম সংস্থাগুলো মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারে। সাংবাদিকতা পড়ানো হয় এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্তাকক্ষ আর পাঠকের চাহিদার কথা চিন্তা করেই সাংবাদিকতা কোর্সের আধুনিকায়ন করা দরকার। মোবাইল সাংবাদিকতার গুরুত্ব সবার কাছে পৌঁছে দিতে তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সংস্থাগুলোকে সবার আগে এগিয়ে আসা উচিত।
লেখক : নিউ মিডিয়া গবেষক, প্রভাষক, গণযোগাযোগ বিভাগ, পিপলস্ ফ্রেন্ডশীপ ইউনির্ভাসিটি, মস্কো, রাশিয়া।

বাংলাদেশনিউজ
২৮.০৩.২০১৫


Comments are closed.