>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

একুশের গ্রন্থমেলায় শিশু চত্বরে ক্ষুদে পাঠকদের ভিড়

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Boi Mela 1শেষ পর্যায়ে এসে একুশের গ্রন্থমেলায় বেচাকিনি জমে উঠেছে। দুদিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫। এখন মেলায় লেখক-পাঠকের ভিড়। শিশু চত্বর জুড়ে ক্ষুদে পাঠকদের আনাগোনা। ওদের অনেকের হাতেই বই।

“আমি আরো দু’টি বই কিনেছি! এটা নিয়ে আমার তিনটা হলো। আরেকটু দেখি,” জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী জারীনের উচ্ছ্বসিত অভিব্যাক্তি বন্ধু এশা’র কাছে।

বই মেলার শিশু চত্বরে পাশেই দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিলো জারীনের সহপাঠি এশার সাথে। এশা জানায় ক্লাশের পড়ার অবসরে গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে।

কার্টুন এবং গেইম খেলা ভালো লাগে। তবুও বই যেন অন্যরকম আনন্দ দেয়। দুই বন্ধুই মায়ের সাথে মেলায় এসেছে। কাটুন, কম্পিউটার গেইম থাকতে বই কেন পড় বলায় জারীন প্রথমে চমকে যায়। তারপর একাগ্র মনে বইগুলো নাড়াচাড়া করতে করতে বললো, ‘ কার্টুন ভালো লাগে। গেইম খেলতেও মজা। কিন্তু বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায়, তাই বই পড়ি।” এশাও তার সাথে একমত প্রকাশ করে।

তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র দিপংকর ভাই-ভাবীর সাথে মেলায় এসেছে। ব্যাঙ, শেয়াল, বাঘেদের গল্পের বই কিনেছে। দিপংকর বলল, “ছবি আঁকতে বেশি মজা লাগে। কিন্তু বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। তাই বই পড়ি।”

Children book fair 1সামারফিল্ড কিন্ডার গার্টেন স্কুলের কেজি ওয়ানের ছাত্র রাফিদ । সলজ্জ হাসিতে একবার বাবার মুখের দিকে তাকিয়েই মুখ নিচু করে বললো, দু’টো বই কিনেছি। ছবি আঁকার বই।” রাফিদ পড়তে শেখেনি। কিন্তু মায়ের কাছে বইয়ের গল্প শুনতে তার খুব ভালো লাগে। সাথে ছোট বোন রাফাইদা ও দু’টো বই পেয়ে আনন্দে ঝলমল। কখন বাসায় যাবে। বইগুলো নেড়ে চেড়ে দেখবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জানান “আজকাল শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে তারা বই পড়ে না। কিন্তু এটি তাদের দোষ নয়। তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাবা-মা এবং অন্যান্য অভিভাবকরা বই পড়ায় উৎসাহিত করলেই বাচ্চারা বই পড়বে। শিক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে ও বাচ্চাদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে পারেন”।

Children book fair‘ আগে পাড়ায় পাড়ায় গ্রন্থাগার ভিত্তিক বই পড়া এবং একটি অলিখিত প্রতিযোগিতা ছিলো। আজকাল তাও তেমন একটা দেখা যায়না ’ উল্লেখ করে মন্্রতী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় শিশু-কিশোরদের কাছে গল্প-কবিতা চেয়ে আমরা একটা নোটিশ দিয়েছিলাম। কোনো পুরস্কারের কথাও বলিনি। সেখানে আমরা বাচ্চাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার লেখা পেয়েছি। এথেকেই প্রমাণিত হয় যে, তাদের প্রতি আমরাই যত্নশীল না। এজন্যেই তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠছে না।

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চের সামনের জায়গটি শিশু চত্বর। মেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্ষুদে পাঠকদের আনাগোনা মুখর করে রাখে শিশু চত্বর। টোনাটুনি, টইটুম্বুর, ওয়ার্ল্ড চিলড্রেনস বুক সেন্টারের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের মধ্যেও বিক্রী খারাপ নয়। বাচ্চারা আসে এবং তারা বইও কেনে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ২৬.০২.২০১৫


Comments are closed.