>> দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে তীব্র যানজট দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ >> বেতন-বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ আহত ২৫ >> ঈদের ছুটির কারণে ২ থেকে ৪ জুলাইও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া যাবে >> দামেস্ক প্রদেশে সিরিয় বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ২০ সন্ত্রাসী নিহত >> আইভরিকোস্টে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু

ওবামা কী পরমাণু প্রশ্নে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চান?

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Obama Merkelমার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, কারিগরি বা খুঁটিনাটি বিষয় ইরানের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছার পথে বাধা নয়, বরং প্রশ্ন হলো মতৈক্যের জন্য তেহরানের রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে কী? বা ইরান সত্যিই সমঝোতা চায় কীনা?

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে এক সংবাদ-সম্মেলনে তিনি এইসব প্রশ্নবোধক মন্তব্য করেন।

২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর পরমাণু বিষয়ে ৬ জাতির সঙ্গে এক অস্থায়ী সমঝোতায় উপনীত হয়েছিল ইরান। তার পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছার জন্য উভয় পক্ষই বার বার আলোচনায় বসেছে। কিন্তু ছয় বড় শক্তির মধ্যে মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের অবাস্তব বক্তব্য ও দাবির কারণেই জেনেভা চুক্তি’র এক বছর পরও পরমাণু আলোচনায় নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আলোচনার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার মার্কিন চেষ্টা থেকে বোঝা যায় মার্কিন পক্ষ মতভেদ ও সমস্যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চায় না এবং এ ব্যাপারে তার রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই।

অথচ ইরান বার বার সদিচ্ছার প্রমাণ দেখিয়েছে। আস্থা অর্জনের জন্য তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তেহরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। আর এ সংস্থাটিও বলে আসছে যে ইরান নজরদারির বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সব চুক্তি মান্য করে আসছে।

সম্প্রতি ছয় জাতির সঙ্গে ইরানের নতুন দফা পরমাণু আলোচনায় এই আলোচনা নবায়নের বিষয়ে যখন সমঝোতা হয়েছে তখনও মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন সরকার এরিমধ্যে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও বার বার দ্বিমুখী কথা বলে আসছেন। নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলাসহ সব পথই খোলা রাখা হবে বলে তিনি হুমকি দিয়ে আসছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতেই এইসব হুমকি দিচ্ছেন বলে ওবামা অজুহাত দেখাচ্ছেন। মার্কিন সরকারের এইসব অযৌক্তিক বক্তব্যের বিরোধিতা করছে ৬ জাতির কোনো কোনো সদস্য। ওবামা কখনও সমঝোতার পক্ষে ও কখনও সমঝোতার বিপক্ষে বক্তব্য রাখছেন। তার এই দ্বিমুখী আচরণের কারণ হলো মার্কিন কর্মকর্তাদের সব পক্ষকেই সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা।

ওবামা নিজেকে শান্তিকামী বলে জাহির করার চেষ্টা করলেও আসলে তিনি অতীতের বলদর্পিতাকেই বজায় রাখছেন এবং ইরানই শান্তি ও সমঝোতা চায় না বলে অপবাদ দিচ্ছেন। আসলে মার্কিন সরকার ইহুদিবাদী লবিগুলোর প্রভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে কৃত্রিম উত্তেজনা ও উদ্বেগ জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। আর এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের হুমকিকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনী গত রোববার বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে বলেছেন, পরমাণু আলোচনায় ইরানিদের হাত বাঁধা রয়েছে এবং তারা সংকটের মধ্যে আটকে পড়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা যে দাবি করছেন তা একটি বড় ধরনের ভুল হিসাব ও ভুল কৌশল। ওবামা নিজেও এ ধরনের ভুল কথা উচ্চারণ করছেন মাঝে মধ্যেই। সোমবারও ওবামা দাবি করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার চাপের কারণেই ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানো সম্ভব হয়েছে। ওবামা আরো বলেন, সমঝোতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু ইরানকেই ‘হ্যাঁ’ বলার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের সব ধরনের অযৌক্তিক দাবি ও হুমকি সত্ত্বেও ইরান এটা স্পষ্টভাবে বলে আসছে যে, পরমাণু কর্মসূচিসহ সব ক্ষেত্রে এই দেশটি তার ন্যায্য অধিকার ও রেড-লাইনগুলো লঙ্ঘনের সুযোগ কাউকেই দেবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, একটি খারাপ সমঝোতা বা চুক্তি হওয়ার চাইতে কোনো চুক্তি না হওয়াই ভালো। ইরান আলোচনা ও চুক্তির নামে তার জাতীয় স্বার্থ ও সম্মানের জন্য সামান্যতম হুমকিকেও সহ্য করবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই এটা স্পষ্ট যে, চলমান পরমাণু আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তার দায় ইরানকে নয় বরং মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদেরই বহন করতে হবে। কারণ, মার্কিন সরকারের অযৌক্তিক দাবিগুলোই পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় ও একমাত্র বাধা।

# রেডিও তেহরান

বাংলাদেশনিউজ
১০.০২.২০১৫


Comments are closed.