>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বরিশালের ফুটপাতে শীতের ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম

হাসনাইন আহমেদ মুন্না

Bhapaপৌষের তীব্র শীতে নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি। শীতের সন্ধ্যার পরেই এসব অস্থায়ী দোকানে ধোয়া উঠা ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। নগরী ও শহরতলীর ফুটপাত, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এই প্রচন্ড শীতে পিঠা খাওয়া ও বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা।

সরেজমিন মহানগরীর সদর রোড, বিবির পুকুর পাড়, টাউন হলের সামনে কালীবাড়ি রোডের মোড়, গার্লস স্কুল মোড়, গির্জা মহল্লা, জেলা পরিষদের পুকুর পাড়, কালীর মোড়, জিলা স্কুলের সামনে, জেলখানার মোড়, বটতলা বাজার, বাংলা বাজার, বিএম কলেজ এলাকা, লঞ্চঘাট এলাকা, হাতেম আলী কলেজ এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও শহরতলীর নানা এলাকায় চলছে পিঠা বিক্রির ধুম। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। আবার অনেক স্থানে ভ্যানে করে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভাপা পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়।

পিঠা বিক্রেতারা জানান, নতুন খেজুরের গুড় ও নতুন চালের গুড়া দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে (ভাপে) এই পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়। এই পিঠাকে আরো সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এসময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়া ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে।
তারা আরো জানান, পরে ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়া, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা। একটি পিঠা বানাতে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে। পাতিলের মুখ থেকে পিঠা উঠানোর সময় নতুন চাল ও গুড়ে মন মাতানো গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। প্রতি পিস পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০টাকায় বিক্রি হয়।

আবার কেউ কেউ পাতিলের মুখে পাতলা কাপড় বেঁধে দেন। পানি গরম হলে পাতিলের উপর রাখা কাপড়ে ছোট পাত্রে পিঠা দেয়া হয়। উপরে দিয়ে দেয়া হয় পাতিলের ঢাকনা। এ পদ্ধতিতে একসাথে অনেকগুলো পিঠা তৈরি করা যায়।

নগরীর চৌমাথা এলাকায় ফুটপাতে ভাপা পিঠা বিক্রেতা আব্দুল আলিম জানান, অন্যান্য সময়ে তিনি ফুটপাতে চা-বিস্কুট বিক্রি করেন। কিন্তু শীতের সময় তিনি ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। এ ব্যবসায় অল্প পুঁজি লাগে বলেই কোন সমস্যা হয়না। এছাড়া লাভ ভালোই হয়। কোন কোন দিন হাজার টাকাও লাভ হয় বলে জানান ভ্রাম্যমাণ এ পিঠা বিক্রেতা।

লঞ্চঘাট এলাকার পিঠা বিক্রেতা কাদের মিয়া ও রাসেল জানান, ভাপা পিঠার দাম অল্প হওয়াতে সব ধরনের মানুষই এখানে ভিড় করেন পিঠা খেতে। তারা ভাপা পিঠার সাথে নতুন চালের চিতল পিঠাও বিক্রি করেন। কেউ কেউ আবার পিঠা কিনে নিয়ে যায় বাসায় সবাই মিলে খাওয়ার জন্য।

জিলা স্কুলের সামনে ভাপা পিঠা খেতে আসা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমিরল মৃদুল ও আল-আমীন জানান, শীতের সময় ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। আমাদের শীতের সাথে পিঠার যে একটা নিবিড় সম্পর্ক তা ভাপা পিঠা খাওয়ার মধ্যেই বোঝা যায়। প্রায় দিনই তারা পিঠা খেতে আসেন বলে জানান।

বাংলাদেশনিউজ
০৭.০১.২০১৫


Comments are closed.