>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

তাহিরপুরের বারিকটিলা ও যাদুকাটা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় স্থান

বিশ্বজিৎ রায়, মৌলভীবাজার

Jadukata 1দেশের উওরপূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় ঘেষে অবস্থিত বারিক টিলা ও পাশ দিয়ে প্রবাহিত পাহাড়ি নদী যাদুকাটা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় এক স্থান।

সুনামগঞ্জ জেলার উওর পশ্চিমে এবং তাহিরপুর উপজেলা থেকে উত্তরে ভারত সীমান্তে অবস্থিত এ বারিক টিলা ও যাদুকাটা নদী। বর্ষায় পাহাড়ি নদী যাদুকাটার বুকে স্রোতধারা আর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়া যাদুকাটার বুক জুড়ে ধু-ধু বালুচর এবং পার্শ্বস্থ ভারতের সারি-সারি উচু নীচু মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় ও বাংলাদেশের বারিক টিলার সবুজ বনায়ন মাটিয়া পাহাড় এখানে আসা লোকজনের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

এ দুই নান্দনিক নৈসর্গিকতার পাশাপাশি তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে যাদুকাটা ও বারিক টিলার পূর্ব প্রান্তে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী শাহ আরফিনের আস্তানা, যাদুকাটা নদীতীরে লাউর নবগ্রাম শ্রী-শ্রী অদ্বৈত প্রতুর মন্দির ও পনতীর্থ ধাম, পশ্চিমতীরে ইস্কন মন্দির বোত্তাশাহর মাজার, বড়ছড়া কয়লা ও চুনাপাথর শুল্কষ্টেশন, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প,আওলি জমিদার বাড়ি, রামসা প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত বিশাল টাংগুয়া হাওরের জলাভূমি এবং বনভূমি উল্লেখযোগ্য।

বারিকটিলার উপর দাঁড়ালে একদিকে চোখে পড়ে হাওর ও অন্যদিকে সারি-সারি পাহাড়। এ মনোরম দৃশ্য যে কারোই মন কেড়ে নেয় সহজেই। জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে ২০ কিলোমিটার এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ বারিক টিলা ও যাদুকাটা নদী। যাদুকাটা ও বারিক টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যকে নিয়ে রয়েছে পর্যটন শিল্পের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। বাস্তবে না দেখলে তা কেউ উপলব্ধি করতে পারবেনা।

যাদুকাটা যেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে শোভামন্ডিত করেছে এলাকার নান্দনিকতা তেমনি যাদুকাটার বালি ও পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। আর এ যাদুকাটার বালি ও পাথর দেশের আভ্যন্তরীন রাস্তাঘাট ও ইমারত নির্মাণে বিরাট অবদান রেখে আসছে।

jadukataবর্ষায় স্রোতস্বীনি যাদুকাটায় ঢল নামার সঙ্গে নদী দিয়ে ভেসে আসা গাছ-পালা জ্বালানী কাঠ হিসেবে সংগ্রহের জন্য মহানন্দে নদীতে নেমে পড়ে নদীতীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকজন।

লোকমুখে শুনা যায়, বিলুপ্তপ্রায় মহাশোল মাছের প্রজনন কেন্দ্রস্থল যাদুকাটর উৎসমুখ। জেলার রাজস্ব আয়ের অন্যতম উপজেলা মৎস্য, পাথর, ধান সহ প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর থাকলেও আজো স্বাধীনতার ৪১ বছর পড়েও যাতায়াতের সুষ্ঠ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি। উপজেলা সদর থেকে বর্ষায় নৌকা ও হেমন্তে ভাড়ায় মোটর সাইকেলে এলাকার লোকজন যাতায়াত করে থাকে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বারিকটিলা, যাদুকাটা নদী ও টাংগুয়ার হাওরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অনুকুল পরিবেশ রয়েছে। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য কখনোই পূরনো হবে না বরং ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে, মনে জাগবে নতুন আনন্দ, অনূভূতি ও প্রকৃতি প্রেম। অবহেলিত তাহিরপুরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে এবং উলে-খিত স্থানগুলো যথাযথভাবে তত্বাবধান করা হলে বারিকটিলা ও টাংগুয়ার হাওরকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্যানশন ফোরাম এর সদস্য শাহীন আহমেদ ও অভিজিত নন্দী বলেন, বারিক টিলা ও টাংগুয়ার হাওর দেখেছি, এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে এ স্থানগুলো দেখতে পর্যটকদের ভীড় জমবে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, প্রতিনিধি, এসএস, জের, ২৪.১২.২০১৪


Comments are closed.