>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

জয়পুরহাট শত্রু মুক্ত দিবস কাল

মফস্বলডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Liberation 71 bdআগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর জয়পুরহাট পাক হানাদার মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদারদের হটিয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে শত শত মুক্তিযোদ্ধা ১৪ ডিসেম্বরের ভোরের আকাশ রাঙ্গিয়ে ওঠার আগেই শীতের কুয়াশা ছিন্ন ভিন্ন করে ঝাঁকে ঝাঁকে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে ও উল্ল¬াসের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটের ডাক বাংলোতে প্রবেশ করে।

হানাদার পাকিস্তানি সৈন্য ও তার দোসররা তখন জীবন বাঁচাতে বগুড়া ও ঘোড়াঘাটের দিকে পালিয়ে যায়।

জয়পুরহাটের ডাক বাংলোতে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’- জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে প্রথম স্বাধীনতার বিজয় কেতন সোনালী বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আসাদুজ্জামান (বাঘা বাবলু)। এই স্বাধীনতার জন্য মূল্য দিতে হয়েছে অনেক মা-বাবা, ভাই-বোনকে। স্বজনদের হারিয়ে অনেকেই এখনও শোকে পাথর হয়ে আছে।

’৭১ সালের জয়পুরহাটের পাগলা দেওয়ানে ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধকালে হানাদার বাহিনী জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে নিয়ে এসে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে এই পাগলা দেওয়ানে। এখানে শুয়ে আছে কত মায়ের অজানা সন্তান। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি এই পাগলা দেওয়ান। এখানে পাক হানাদার বাহিনীর একটি পরিত্যাক্ত বাংকার এখনও বিদ্যমান। এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে আসা অনেকেই এখনও সেই করুণ স্মৃতি বহন করে চলেছেন।

এছাড়াও কড়ই কাদিপুর গ্রামে ৩শ’ ৭১ জন মৃৎ শিল্পী (কুমার) কে গুলি করে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী। এখানে একটি বধ্যভূমি রয়েছে।

বিজয়ের এই দিনকে স্মরণ করতে জয়পুরহাটে শহীদ ডাঃ আবুল কাসেম ময়দানে ৭১ ফুট উচ্চ শহীদ স্মৃতি বিজয়স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।

১৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে জয়পুরহাটবাসী পাগলা দেওয়ান স্মৃতি সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ, বিজয় পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা ও শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার আমজাদ হোসেন জানান, জয়পুরহাটের গণহত্যার নায়ক ও তৎকালিন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান যুদ্ধাপরাধি আব্দুল আলীমের (আমৃত্যু সাজা) বিচার হওয়ায় (বর্তমানে মৃত্য) এবারের বিজয় দিবস ভিন্ন আমেজে পালিত হবে ।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৩.১২.২০১৪


Comments are closed.