>> শনিবার সকালে উত্তর কোরিয়া আবার ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে >> পরস্পর আন্তঃসংঘর্ষে সিরিয়ায় পূর্ব দামেস্কে ৪০ সন্ত্রাসী নিহত >> মিয়ানমারের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ আহত ২১ >> রাজধানী ঢাকায় ট্রাকচাপায় ২ জন নিহত >> আখাউাড়ায় ট্রাকচাপায় নিহত ১ আহত ৩ >> মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন

এস এম জামাল, কুষ্টিয়া

Mir Mosharraf-horz 1সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন কুমারখালির  লাহিনীপাড়া গ্রামে। লাহিনীপাড়ায় তাঁর ঘর বাড়ির আর কোন অস্তিত্ব নেই। তবে মীরের নিজ হাতে লাগানো একটি মৃত আম গাছ তাঁর স্মৃতি ও কালের নীরব সাক্ষি।

মীরের জন্মের পর তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে লাহিনীপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম দৌলতুন্নেসা।

মীর মশাররফ প্রথমে জগনমোহন নন্দীর পাঠশালায় পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি কুমারখালির এমএন হাই স্কুল, কুষ্টিয়া হাই স্কুল ও রাজবাড়ি জেলার পদমদী হাই স্কুলে কিছুদিন পড়াশুনা করেন।

১৮৬০ সালে মীর মশাররফের মা দৌলতুন্নেসা মারা যান। সেই সময় মীরের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এ বয়সেই তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই তাঁর উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্ম বিষয়ক প্রায় ৩৫টি বই রচনা করে গেছেন। এরমধ্যে রত্নাবতী, গৌরী সেতু, বসন্তকুমারী, নাটক জমিদার দর্পণ, সঙ্গীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, মদীনার গৌরব, বিষাদসিন্ধু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছিলেন। প্রথমে তিনি কাঙাল হরিণাথ মজুমদারের সাপ্তাহিক গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকা ও কবি ঈশ্বরগুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ১৮৮০ সালে তিনি লাহিনীপাড়া ‘হিতকরী’ নামের একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।

মীর মশাররফ হোসেন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় কলকাতায় তাঁর বাবার বন্ধু নাদির হোসেনের বাড়িতে থেকে কিছু দিন পড়াশুনা করেন। এখানে থাকাকালে নাদির হোসেনের বড় মেয়ে লতিফুন নেছার সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং পরে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু নাদির হোসেন বিয়ের সময় বড় মেয়ের পরিবর্তে মেজ মেয়ে আজিজন নেছার সাথে মীরের বিয়ে দেন। এঘটনার পর লতিফুন নেছা আত্মহত্যা করেন।

বিয়ে সম্পন্ন হলেও প্রথম স্ত্রীর সাথে তার মনোমালিন্য লেগে থাকতো। প্রথম বিয়ে সুখের না হওয়ায় মীর মশাররফ ৮ বছর পর কুমারখালির সাঁওতা গ্রামের বিধবা কুলসুম বিবির সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে প্রথম স্ত্রীর সাথে তাঁর মনোমালিন্য আরো তীব্র হয়। এরপর তিনি স্ত্রী কুলসুম বিবিকে নিয়ে লাহিনীপাড়া ছেড়ে টাঙ্গাইলে চলে যান এবং সেখানে বসবাস করতে থাকেন। প্রথম স্ত্রী আজিজন নেছা কয়েক বছর নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করার পর লাহিনীপাড়ায় মারা যান এবং তাকে সেখানেই সমাহিত করা হয়।

মীরের প্রথম স্ত্রীর কোন সন্তান ছিল না। তাঁর ৫ ছেলে ও ৬ মেয়ের সকলেরই দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম বিবির গর্ভে জন্ম।

বাংলাদেশনিউজ
১৪.১১.২০১৪


Comments are closed.