>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ইরান সন্ত্রাসী হামলার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রচারণা হামলার সম্মুখীন হচ্ছে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Javad Larijaniইরানের বিচার বিভাগের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের সচিব মোহাম্মদ জাওয়াদ লারিজানি বলেছেন, ইরান সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক ও প্রচারণা হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি ইউরো নিউজ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে মানবাধিকার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে বলেছেন, তার দেশ নতুন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে এবং এটাকে প্রচারণা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা বলা যায়।

ইরানের বিচার বিভাগের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের সচিব মোহাম্মদ জাওয়াদ লারিজানি আরো বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদে আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ প্রায় ৫০টি দেশ মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের সমালোচনা করেছে। কিন্তু এ পরিষদে ৭০টির বেশি দেশ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইরানের কাছে কেবল আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স মুখ্য নয় বরং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মতামতকেই তেহরান গুরুত্ব দেয়।

শত্রুরা মানবাধিকার বিষয়টিকে সবসময়ই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ মানবাধিকারের দাবিদার দেশগুলো নিজ দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করে ইরানকে অভিযুক্ত করে আসছে। আমেরিকাসহ মানবাধিকার রক্ষার দাবিদার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যাবে অন্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির নিয়ে মন্তব্য করা বা সমালোচনা করার কোনো অধিকার তারা রাখে না। আমেরিকায় ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন বা এক শতাংশ মানুষের শাসন ও মোড়লিপনার বিরুদ্ধে ৯৯ শতাংশ মানুষের অবস্থান, কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং গুয়ান্টানামো বে জেলখানায় আটক বন্দীদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতনের ঘটনায় আমেরিকা নিজেকে মানবাধিকার রক্ষার দাবি করতে পারে না।

আমেরিকায় বসবাসকারী কৃষ্ণাঙ্গরা প্রতিনিয়ত শ্বেতাঙ্গদের হামলার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকার একটি শহরে এক নিরীহ কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গুলি করে হত্যা এবং এর প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ আমেরিকায় মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে। গুয়ান্টানামো বে জেলখানায় বন্দীদের ওপর মার্কিন সেনাদের বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সারা বিশ্বে তা আমেরিকার জন্য বিরাট কেলেঙ্কারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনা বিচারে আটক রাখা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বন্দীরা অনশন ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে মার্কিন ড্রোন হামলায় এ পর্যন্ত বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এটাও বহির্বিশ্বে আমেরিকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিদার আমেরিকা তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমস্ত মানবিয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে চলেছে। আমেরিকা ইরানের সঙ্গেও একই ধরণের আচরণ করছে। ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা, ইরান বিরোধী সন্ত্রাসী মোনাফেক গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা, সারা বিশ্বে ইরান আতঙ্ক তৈরি করা প্রভৃতি অন্যায় অপকর্মের মাধ্যমে আমেরিকা ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর দেশটি স্বাধীন নীত গ্রহণ করায় বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর সমস্ত হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে এবং তারা ইরানের সঙ্গে শত্রুতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ কারণে ইরান গত ৩৫ বছর ধরে সন্ত্রাস, রাজনৈতিক ও প্রচারণা হামলা মোকাবেলা করে আসছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১০.১১.২০১৪


Comments are closed.