>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

আজ শোকাবহ জেল হত্যা দিবস

সম্পাদকীয় ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Four Leaders Khulnaআজ ৩ নভেম্বর। জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সিপাহশালার ও সংগঠক এবং জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী, চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে বন্দী থাকা অবস্থায় ঘাতকরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতীয় এ চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে আটক বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানী অনুচরদের দ্বারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সদস্য, আপনজন এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহোযোগিদের  নির্মমভাবে হত্যা করার পর এই চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল জাতিকে নেতুত্বহীন করা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করা। যে হীন চক্রান্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জনের আগ মুহূর্তে দেশকে মেধা শুণ্য করতে, অভিভাবক শুণ্য করতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেই একই কূটচক্রান্তের ধারাবাহিকতায় জাতির এ চার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করা হয়।

১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোস্তাক আহমদের ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানী অনুচর ঘাতকেরা এ নির্মম হত্যাকান্ড ঘটায়। মোস্তাকের নির্দেশে ঘাতকচক্র কারাগারে ঢুকে প্রথমে গুলি এবং পরে বেওনেট দিয়ে নির্মমভাবে খুঁচিয়ে তাদেঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তাঁর ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করার পর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ সমধিক পরিচিত লাভ করেন এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে এবং যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জাতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়ের কালো দিবসটি আজ পালন করবে।

আমরা জাতীয় বীর এই চার শহীদ নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদেঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

বাংলাদেশনিউজ,
০৩.১১.২০১৪


Comments are closed.