>> শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে কাল ঈদ >> পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১২৩ জন নিহত

ইরাকি সেনাবাহিনীর হামলায় পালিয়ে যাচ্ছে উগ্র সন্ত্রাসীরা

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Iraqi armyইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলকে উৎখাত করার জন্য ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, ইরাকের সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করার পর থেকে সন্ত্রাসীরা আল-আনবার প্রদেশ থেকে সিরিয়ার দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে।

আল-আনবারের প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান সাবাহ কারহুত বলেছেন, এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ব্যাপক আক্রমণে আইএসআইএল সন্ত্রাসীরা হতবিহবল হয়ে পড়েছে এবং তারা সিরিয়া ও পশ্চিমের মরুভূমির দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেছেন, পশ্চিমের রামাদিতে অবস্থিত আল সাবায়ে কিলো এলাকায় নতুন করে সেনা অগ্রাভিযানের ফলে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকা ছেড়ে পুরোপুরি চলে গেছে।

এদিকে অন্য এক খবরে জানা গেছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সালাউদ্দীন প্রদেশে আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ওই এলাকার আবিদ গোত্রের অনেক যোদ্ধাও সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা কিরকুকের আল-ফারাজ এলাকায় হামলা চালিয়ে অনেক সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। ইরাকের শিয়াপন্থী সাদর আন্দোলনের একজন সামরিক কমান্ডার সিরাইয়া আল ইসলাম বলেছেন, তার বাহিনী বাবল প্রদেশের জারফ আল সাখরে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে এবং আইএসআইএল’র অনেক সন্ত্রাসীকে তারা হত্যা করেছে।

যাই হোক, ইরাকের বিভিন্ন গোত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অনুগত সশস্ত্র বাহিনী দেশটির সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে যাতে সম্মিলিতভাবে সেদেশ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও অর্থে মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদেরকে বিতাড়িত করা যায় এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিরিয়ার মত ইরাকও বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার। পাশ্চাত্য এবং কয়েকটি আরব দেশ আইএসআইএল’র মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এ অঞ্চলে তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের সমর্থক দেশগুলোও বর্তমানে বিপদ অনুভব করছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করার জন্য সম্প্রতি প্যারিস ও জেদ্দায় আন্তর্জাতিক বৈঠক হয়েছে। প্যারিসে বৈঠক শেষে ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, আইএসআইএলকে মোকাবেলার জন্য তাদেরকে বাইরে থেকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। আইএসআইএল সন্ত্রাসীরা প্রায় সাড়ে তিন বছর প্রথমে সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে এবং এখন তারা ইরাকে যুদ্ধ করছে। শুরু থেকেই আমেরিকা, সৌদি আরব ও কাতারের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তায় তারা এসব যুদ্ধ পরিচালনা করছে। কিন্তু এখন সন্ত্রাসীদের সমর্থক দেশগুলো আইএসআইএলকে মোকাবেলার কথা বলছে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, পাশ্চাত্য ও তাদের আরব সমর্থক দেশগুলো আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে কথা বললেও এটা আসলে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার নতুন চাল বা ষড়যন্ত্র। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম জাফরি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় বাইরের সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজন তাদের নেই বরং সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় আমরা আন্তর্জাতিক সমাজের সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করি।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৬.০৯.২০১৪


Comments are closed.