>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে পাশ্চাত্যের সঙ্গে কোনো আপোষ হবে না : ইরান

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

nuclear.iranপাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা বহুদিন ধরে ইরানের পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সীমিত করে আনার বিষয়টি যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সবচেয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। এ অবস্থায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উত্থাপনের যে কোনো চেষ্টা ইরানের রেড লাইন অতিক্রম করার শামিল। অথচ গত ২৪শে নভেম্বর জেনেভায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের যে অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হয়েছিল তাতে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কেবল পরমাণু বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গত সপ্তায় তেহরান সফরকারী আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানোর সঙ্গে সাক্ষাতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। কিন্তু তারপরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত করার জন্য  ইউরোপ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের চেষ্টার অন্ত নেই। গত কয়েক মাস ধরে তারা ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের জন্য পরমাণু আলোচনার টেবিলে দেশটির ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

অথচ মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন সম্প্রতি কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের সামরিক নীতি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। ব্লুমবার্গ টেলিভিশনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, “প্রতিপক্ষের হামলা প্রতিহত করা ও প্রতিশোধ নেয়া এবং কূটনৈতিক উপায়ে যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা জন্যই ইরান প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে”।

পরমাণু আলোচনা নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে তখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে পেন্টাগনের এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে কোনো দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে এবং এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় ও অনস্বীকার্য বাস্তবতা। বর্তমান বিশ্বে এটা সবাই মেনে নিয়েছে যে, শত্রুর হুমকির মোকাবেলায় যে কোনো দেশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে দু’দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, যে দেশ সবসময় হামলার হুমকির মুখে থাকে সে যদি সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী থাকে তাহলে শত্রুপক্ষের হামলার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, যদি কোনো দেশ হামলার স্বীকার হয় তাহলে সে নিজস্ব শক্তির ওপর ভর করে স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিরক্ষামূলক সামরিক নীতি যুদ্ধের আশঙ্কাকে অনেক কমিয়ে দেয়। ইরানের সমর নীতিও এরই ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং দেশটি ঘোষণা করেছে তাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু বোমা এবং ব্যাপক গণবিধ্বংসি অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। এ ছাড়া কেবল প্রচলিত অস্ত্রের আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দেশটি জানিয়েছে। আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল, আমেরিকা ও ইউরোপের সাবেক উপনিবেশিক কয়েকটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির ভাষায় কথা বলছে। এ ছাড়া, শত্রুর চাপিয়ে দেয়া আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে ইরানের। এসব কারণে ইরান তার শত্রুদেরকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, নিজের প্রতিরক্ষা প্রশ্নে দেশটি অন্যের অনুমতির ধার ধারে না।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, এসএস, জের, ২৪.০৮.২০১৪


Comments are closed.