>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

দ্বিচারিণী স্বভাবের আমেরিকার ইরাকেও দ্বিমুখী নীতি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

US air strike against ISIS in Iraqইরাকে এবং মধ্যপ্রাচ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিক দলের সিনেটর জন ম্যাক কিন অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা আল-কায়েদা সমর্থিত তথাকথিত ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্যা লিভান্ট বা আইএসআইএল’র হুমকি মোকাবেলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি সিনেটে এক অধিবেশনে বলেছেন, ইরাক যখন সন্ত্রাসীদের আগুনে পুড়ছে তখন প্রেসিডেন্ট ওবামা গলফ খেলছেন এবং জন কল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির মাত্রা কমিয়ে আনার কারণেই মূলত আইএসআইএল’র হুমকি বেড়েছে।

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করছেন। একদিকে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের রেখে যাওয়া যুদ্ধনীতি থেকে সরে আসার কথা বলছেন অন্যদিকে তিনি নিজেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন ক্ষমতায় আসেন তখন ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি এ দু’টি দেশ থেকে অনেক সেনা সরিয়ে এনেছেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামা লিবিয়ায় যুদ্ধ শুরু করলেও এবং আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় পাইলট বিহীন বিমান বা ড্রোন হামলার নির্দেশ দিলেও সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবেলায় তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। জন ম্যাক কিনের মত সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ওবামা ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে কৌশলগত ভুল করেছেন। কারণ এতে করে উগ্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পেয়েছে। তাদের মতে, আইএসআইএল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাকে আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য হোয়াইট হাউজের অনেক সমর্থক এবং মার্কিন সমাজের একটি বড় অংশ মনে করেন, ইরাকসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের অগ্রযাত্রা রোধে প্রেসিডেন্ট ওবামা যে গড়িমসি করেছেন তার পেছনে এমন কিছু কারণ থাকতে পারে যার ফলে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তাদের মতে, এমনকি প্রেসিডেন্ট ওবামা চাইলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা আমেরিকার নেই।

গত এক দশকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে আমেরিকা অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতির দিক দিয়ে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধ প্রসঙ্গে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। ওবামার সমর্থকরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সমস্যাকে সাবেক সরকারের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা এবং কট্টরপন্থীদের ভুলের ফল বলে মনে করছেন যারা কিনা বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্পর্শকাতর এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থানকে হারিয়েছে। অতীত ভুল পুষিয়ে নেয়ার জন্য এখন আমেরিকার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ যেমন নেই তেমনি তারা চায় না এসব সংকটে জড়িয়ে আর কোনো মার্কিন সেনা প্রাণ হারাক।

মার্কিন যুদ্ধবাজ নেতাদের ভুল নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে। আইএসআইএলসহ যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাশ্চাত্যের কাছ থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা নিয়ে সিরিয়ায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তারাই বর্তমানে ইরাকের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলমান, খ্রিস্টানসহ কোনো ধর্মের অনুসারীরাই তাদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। আমেরিকা আইএসআইএল’র ওপর বিমান হামলা চালালেও ধারণা করা হচ্ছে যতদিন পর্যন্ত তারা বাইরে থেকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা পাবে ততদিন পর্যন্ত তাদের হুমকি দূর হবে না।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, এসএস, জের, ১১.০৮.২০১৪


Comments are closed.