>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
২৫-০৬-২০১৪

বাজেটে এমপিওভুক্তি খাতে অর্থ বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন

Book and Candle-vertস্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবীতে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টা  থেকে দুই ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষক নেতারা চলতি বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবী জানান। শিক্ষক নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

কর্মসূচিতে বিগত আন্দোলনের সময় শিক্ষামন্ত্রী বার বার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না করায় শিক্ষক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা চলতি বাজেটে এমপিওভুিক্ত  খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। কাজী মুহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে   বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম, শরীফুজ্জামান আগাখান, শাহাদত হোসেন ,আনোয়ার হোসেন ও বাবুল আখতার। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ।

কর্মসূচী :
১। আগামীকাল বৃহষ্পতিবার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সাথে মতবিনিময়।

২। ২৭জুন শুক্রবার, বিকাল ৪টায়  টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের  মাজার জিয়ারত এবং তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির গুরুত্ব কর্তৃপক্ষকে অবগত করাতে লাগাতার  অবস্থান কর্মসূচি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণঃ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বাজেটে বরাদ্দ চাই

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক  স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠন (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) ১০-১৫ বছর ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। গত কয়েক বছর যাবত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে  আন্দোলন করেছে । সে প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী এবং সচিবের সাথে বিভিন্ন সময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এমপিওভুক্তির বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দেয়া হলেও বছরের পর বছর পেরোলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুরাহা হয়নি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন শুকিয়ে মরার উপক্রম হয়েছে।

কোন স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য বিরাজ করলে শিক্ষার মানের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই বিবেচনা থেকে সকল রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপকে অভিন্ন কাঠামোর ভিতর আনা হয়েছে। অথচ একই কারিকুলাম, একই একাডেমিক ইয়ার, একই মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধাভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনিকাংশে সুবিধাভোগী আর স্বীকৃতি প্রাপ্ত নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরাপুরি সুবিধাবঞ্চিত। এ রকম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপদগ্রস্ত অবস্থায় রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে কাঙ্খিত মান অর্জন সম্ভব নয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রসঙ্গে অর্থের অভাবের কথা বলা হয়। এখন কোন খাতে অর্থ বরাদ্দ না দিলে অর্থ সংকট তো হবেই। আড়াই লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য ৫-৭ শ কোটি টাকার অংক নিহাতই অতিক্ষুদ্র এক ভগ্নাংশ। এমপিওভুক্তির বাজেট স্বল্পতা মেনে নিয়েও একটি সুর্নিদিষ্ট রূপরেখা ভিত্তিতে পর্যায়ক্রয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দু ধরনের প্রস্তাব আমরা ইতোমধ্যে দিয়েছি। একটি প্রস্তাবে ছিল, কোন অর্থ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০% বেতন দেওয়া হবে। পরবর্তী এক কি দুই অর্থ বছরে এমপিওভুক্তি সম্পূর্ণ করা হবে। এখনো এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এমপিও খাতে সুনির্দিষ্ট কোন অর্থ বরাদ্দের উল্লেখ না করায় আমরা হতাশ। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নির্ধারণের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করেছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে ৭৫৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণী চালু করা হয়েছে বলে জানা যায়। এজন্য সব প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্ততÍপক্ষে ৫ জন শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি করতে হবে। ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা শুভ উদ্যোগ। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী ক্লাস চালু হলে মাধ্যমিক বিদ্যালয় নি¤œ মাধ্যমিক স্তরে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিলবে না। ঐ স্তরের শিক্ষকরা অতিরিক্ত হয়ে পড়বেন। কাজেই ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত রেখেই কিভাবে শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা যায়, সেই কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নি¤œ মাধ্যমিক স্তরে যে সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের এমপিওভুক্তি জরুরী।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়টি বর্তমানে জাতীয় সমস্যার রূপ নিয়েছে। মাননীয় সাংসদরাও বিষয়টি অবগত। চলতি বাজেট অধিবেশনে তারা বিভিন্ন সময় বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। ২৯ শে জুন বাজেট পাশ হবে। এই বাজেটে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির খাতে বরাদ্দ থাকে সে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আজকে আমাদের এই কর্মসূচি।

বার্তা প্রেরক,

মোঃ শফিকুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট
কেন্দ্রীয় কমিটি

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
২৫.০৬.২০১৪


Comments are closed.