>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

সন্ত্রাসীদের উৎখাতের জন্য গোত্রীয় নেতাদের সঙ্গে মালিকির সমঝোতা

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

Malikiইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি সেদেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীদের উৎখাত করার জন্য যে পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন ওই অঞ্চলের উপজাতি জনগোষ্ঠী তাকে স্বাগত জানিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় আল আনবার প্রদেশের সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানকার উপজাতি নেতাদের সঙ্গে সরকার প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে ইরাকের কোনো কোনো সূত্র জানিয়েছে।

উপজাতি অঞ্চলের প্রতারিত যুবকদের অস্ত্র সমর্পণ, প্রকৃত সন্ত্রাসী ও যারা নিরীহ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে ধরিয়ে দেয়া, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে লড়াইরত উপজাতি যুবকদেরকে চাকরির ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিষয়ে ইরাক সরকার ও আল আনবার প্রদেশের উপজাতি নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। ওই প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরকারী কর্মকর্তা, প্রাদেশিক গভর্নর, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা এবং স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে ওই চুক্তি সই হবে। এখন পর্যন্ত ফালুজা শহরের ২৩টি গোত্র প্রধানমন্ত্রী নুরি মালিকির উদ্যোগে এ সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা নিজেদের সন্তানদেরকেও সন্ত্রাসীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহবান জানিয়েছে। এ ছাড়া, আল আনবার প্রদেশের আরো ছয়টি গোত্র একটি জোট গঠন করেছে যারা কিনা ফালুজা শহরে তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বর্তমানে জোটের সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬০০তে দাঁড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ফালুজা শহরের জমিয়তে ওলামাদের পরিষদও পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা এবং আল আনবার প্রদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের উৎখাতে প্রধানমন্ত্রী নুরি মালিকির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তারাও উপস্থিত থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নুরি মালিকি পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-কায়েদা সমর্থিত ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএল’র প্রভাবিত এলাকায় উপজাতিদের এক বিরাট অংশের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে উপজাতি নেতাদের সহযোগিতার মাধ্যমে খুব দ্রুত ওই অঞ্চলের চলমান সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আশা করছেন।

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল এবং বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছিলেন তিনি। এমনকি কয়েকটি শিয়া সংগঠনও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী মালিকির কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিলেন।

বর্তমানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা এবং সরকার গঠনের জন্য দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায়            সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া প্রধানমন্ত্রী মালিকি নিজে ও তার দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছেন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে তিনি গত দুই বছর ধরে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মালিকি ভালো করেই জানেন, তিনি যদি পশ্চিমাঞ্চলীয় আল আনবার প্রদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন তাহলে বর্তমান স্পর্শকাতর সময়ে এটা তার নিজের ও দলের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এ জন্য তিনি আল-কায়েদা সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএলকে দুর্বল করা এবং স্থানীয় উপজাতি নেতাদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করেছেন।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মালিকি যদি সত্যিই গোলযোগপূর্ণ আল আনবার প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তাহলে এটা হবে তার সরকারের জন্য বিরাট সাফল্য।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, এসএস, জের, ০২.০৬.২০১৪


Comments are closed.