>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জাতীয় কৃষক জোট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
২৮ মে ২০১৪

অর্থমন্ত্রীর প্রতি জাতীয় কৃষক জোট:
দুই কোটি আটষট্টি লক্ষ কৃষকের শত্র“ খালেদা জিয়া
জামাত-বিএনপি’র কৃষি বিরোধী নৈরাজ্য-নাশকতা
মোকাবেলায় কৃষিতে বিনিয়োগ ও ভর্তূকি বাড়ান

Jatyo Krishok Joteবুধবার ২৮ মে ২০১৪ বুধবার দুপুর ১২ টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাতীয় কৃষক জোটের উদ্যোগে আসন্ন বাজেট উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক জোটের সভাপতি ইকবাল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক শামসুল ইসলাম খান, সদস্য আজিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান ফসি, সাংগঠনিক সম্পাদক রতন সরকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন প্রমূখ।

জাতীয় কৃষক জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষি হল অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। যে বছর কৃষির উৎপাদন ভাল হয় সে বছর প্রবৃদ্ধির হার বেশি হয়ে থাকে এবং যে বছর কৃষির উৎপাদন কমে যায় সে বছর অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হারও কমে যায়। বিগত বছরগুলোর অর্থনৈতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বছর কৃষিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ বা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে সে বছরই কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতি কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করেনি; এমনকি কৃষক সংগঠনগুলোও ১৯৯০ সাল থেকে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য কোন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। সংখ্যাবিচারে দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর পক্ষে দরকষাকষির কোন কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মহাজোট সরকার গতমেয়াদে ক্ষমতাসীন হবার পরপরই ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট চালু, কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান, কৃষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি করা ও কৃষিপণ্যের মূল্য ঘোষণা করাসহ যে সব কৃষকবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল, মেয়াদের মাঝামাঝি সময় থেকে সেগুলোর ধারাবাহিকতা না রাখায় জাতীয় কৃষক জোট উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। কৃষক জোট তীব্র ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, গতবছর দেশের শত্র“ যুদ্ধাপরাধী জামাত-শিবিরকে রক্ষার জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার নামে বিএনপি সারাদেশে যে ভয়াবহ নৈরাজ্য-নাশতকা সৃষ্টি করেছিল তার ফলে দেশের কৃষক সমাজ ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে, এবং এখনও পর্যন্ত তারা তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জামাত-বিএনপি কেবল সারাদেশে কৃষিপণ্য পরিবহনে সশস্ত্র বাধাই তৈরি করেনি, তারা সব্জি ও শস্যবাহী পরিবহনে আগুনও দিয়েছে। সারাদেশে ক্রয়বিক্রয়ে বাধা প্রদান করে কোটি কোটি কৃষককে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করেছে।

উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রীর প্রতি জাতীয় কৃষক জোটের আহ্বান:

১. বিগত দশকের সামরিক সরকারগুলোর ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনপি-জামাতের কৃষিবিরোধী ভূমিকার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আগামী বাজেটে কৃষিতে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।
২. বিগত মেয়াদে ক্ষমতায় এসে মহাজোট সরকার কৃষিতে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল তা ধারাবাহিকতার সাথে বজায় রাখতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে হবে।
৩.সার, বিদ্যুৎ ও ডিজেলসহ কৃষি ভর্তুকি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি সহায়তা কৃষককে সরাসরি কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।
৪. অবিলম্বে একটি স্থায়ী ‘কৃষিপণ্য মূল্য কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সকল কৃষিপণ্যের মূল্য পর্যালোচনা ও নির্ধারণ করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এবারের বাজেটে এলক্ষ্যে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
৫. গত কয়েক বছর ধরে আলুসহ পচনশীল কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও লাভজনক মূল্যের ধারাবাহিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত হিমাগার তৈরিতে অর্থায়ন করতে হবে। কৃষক পর্যায়ে আলুসহ পচনশীল কৃষিপণ্যের সংরক্ষণের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে তাদের স্থানীয় প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৬. কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
৭. সমভূমি অঞ্চলের পাশাপাশি উপকূল, চর, বরেন্দ্র, মধুপুর, পার্বত্য, হাওর ও বিল অঞ্চলের কৃষির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
৮. কৃষকের কাছ থেকে বা দেশ থেকে ‘নো নেট রিসোর্স ট্রান্সফার’ নীতির ভিত্তিতে কৃষিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে হবে। কৃষিবীমার আবরণে কৃষক বা দেশ থেকে অর্থপাচারের নীতি গ্রহণ করা চলবে না।
৯. দেশজ কৃষিভিত্তিক পণ্যের বাজার সংরক্ষণের জন্য বিদেশী কৃষিপণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করতে হবে।
১০. সকল ট্রেনে কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য নামমাত্র ভাড়ায় বগি সংযোজন করতে হবে।
১১. স্থানীয় পর্যায়ে জার্মপ্লাজম সেন্টার, বীজভান্ডার ও স্থানীয় জাত সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রকল্প প্রণয়ন ও বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
১২. নসিমন-করিমনসহ স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গৃহীত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের পরিবহনে ও গ্রামজীবনে গতিশীলতায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালনকারী নসিমন-করিমনসহ স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে অবিলম্বে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দশকের পর দশকের গণবিরোধী নীতির ফলে বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক বহুমাত্রিক সমস্যায় আক্রান্ত। এগুলোকে ১০টি বৃহত্তর ভাগে ভাগ করা যায়
(১) কৃষকের পক্ষে দরকষাকষির কোন সংগঠন নেই;
(২) কৃষি উপকরণ দু®প্রাপ্য ও দুর্মূল্য;
(৩) কৃষিতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও বিনিয়োগ নেই;
(৪) অপ্রতুল কৃষি সেবা;
(৫) খাল-বিল-নদী-নালা-বন ও খাস জমিসহ সাধারণ সম্পদে প্রবেশাধিকার নেই;
(৬) উৎপাদিত কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য নেই;
(৭) কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে পর্যাপ্ত সহায়তা নেই;
(৮) নারী কৃষকের অবদান ও অধিকারের স্বীকৃতি নেই;
(৯) জলবায়ু পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট কারণে কৃষি প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য বিপন্ন; এবং
(১০) কৃষি সংশ্লিষ্ট নীতিগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য নেই ও এগুলোর বাস্তবায়নে সমন্বয় নেই।

জাতীয় কৃষক জোট মনে করে এসব সমস্যার একটি-দুটির সমাধান করে কৃষি ও কৃষকের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হবে না; তার জন্য প্রয়োজন একটি ‘সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

জাতীয় কৃষক জোট ‘সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।

কৃষক জোট সকল কৃষক সংগঠন ও কৃষকবান্ধব ব্যক্তি ও সমাজশক্তিগুলোকে ‘সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সংগ্রামে সামিল হতে আহ্বান জানাচ্ছে।

বার্তা প্রেরক

হাসিনা আক্তার নাইনু
দফতর সম্পাদক
জাতীয় কৃষক জোট

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
২৯.০৫.২০১৪


Comments are closed.