>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

টি২০ বিশ্বকাপ : লন্ডন টু চট্টগ্রাম

প্রতাপ কামাল

T20 world cup 2014বসেছিলাম। লন্ডন শহরের পিকাডিলি সার্কার্সের একটি পোশ বার-এ। বাইরে বেশ ঠান্ডা, তাতে আবার বৃষ্টি হচ্ছে। একা, কথা বলার কেই নেই। তাই মাথা ঘুরিয়ে দৃষ্টি ছড়িয়ে এদিক ওদিক দেখছিলাম। আমার বাম পাশে ঝাঁড় বাতির আলো আধারিতেঁ ছয় জন লোক বসা। তাদের একটু চিন্তিত-চিন্তিত, মনমরা, উদাসীন মনে হল। তাদের কথাবার্তায় একটু পর বুঝতে পারলাম, ওরা ছয়জন লন্ডনের ক্রিকেট বুকি।

বুঝলাম, ওদের আজ সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান হবে। ঠেকানোর কোন পথ নেই। কারণ আজ টি২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাথে নেদারল্যান্ডের খেলা। ইংল্যান্ডের পক্ষে এক অনুপাতে এক (১:১) বাজী, অর্থাৎ ইংল্যান্ড জিতলে এক পাউন্ড বাজী ধরলে এক পাউন্ড পাওয়া যাবে। বাজির পরিমাণ সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ড (৫৫ লাখ পাউন্ড)। অথচ নেদারল্যান্ডের পক্ষে বাজী এক অনুপাতে সত্তর (১:৭০)। কিন্তু শতকরা দুই ভাগ লোকও নেদারল্যান্ডের পক্ষে বাজী ধরে নি। নেদারল্যান্ডের পক্ষে মোট বাজীর পরিমাণ মাত্র চার হাজার ছয় শ’ পাউন্ড। ফলে ইংল্যান্ড জিতলে বুকিদের গুণতে হবে সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ড (৫৫ লাখ পাউন্ড) আর নেদারল্যান্ড জিতলে দিতে হবে মাত্র তিন লক্ষ বিশ হাজার পাউন্ড। খেলায় নেদারল্যান্ড জিতলে শুধু কম পাউন্ডই দিতে হবে না, লাভ হবে ৫০ লাখ পাউন্ডেরও বেশী। কিন্তু সবাই যে ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজী ধরে বসে আছে।

বুকিদের কথা থেকে বুঝা গেল, কী ভাবে নেদারল্যান্ডকে জেতানো যায় সেটাই এখন তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। একজন খুব সিরিয়াসলি অন্যদের বুঝাতে লাগলো,
-ইংল্যান্ড আর কোন ভাবে সেমিফাইনালে যেতে পারছে না। এই একটা ম্যাচ জিতে কী আর এমন মর্যাদা বাড়বে তাদের! ব্রডের ক্যাপটেন্সী তো গেছেই। তারচে’ ম্যাচটা ছেড়ে দিয়ে যদি সবাই এক লাখ পাউন্ড করে পেয়ে যায়, সমস্যা কোথায়? তারপরও তো আমাদের ত্রিশ লাখ পাউন্ডের উপরে থাকবে।
-কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? অন্যদের প্রশ্ন।
-কেন? নতুন পুরোন সব চ্যানেল ফিট করো!

তিন-চরজন ব্যাস্ত হয়ে মোবাইল থেকে বিভিন্ন যায়গায় ফোন করতে থাকলো। কথা বলতে বরতে ওদের মুখ-চোখ লাল হয়ে যেতে লাগলো, উত্তেজনা বাড়ছে, ঠান্ডার মধ্যেও কপালে স্বেদ বিন্দু জমতে শুরু করেছে।

পনের বিশ মিনিট পর কালো লং কোট গায়ে এক লোক এসে বারে ঢুকে ত্রস্ত পায়ে বুকিদের টেবিলে গিয়ে একটি চেয়ার নিয়ে বসে পড়ল। তারপর আগের ছয়জন ও আগন্তক মাথা এক জায়গায় করে ফিস-ফিস করতে লাগলো। মিনিট দশেক পর কালো লং কোট পরা আগন্তক উঠে দাড়িয়েঁ একটি হাসি দিল। তারপর টেবিলে একটি চাপড় দিয়ে বললো- ডান! অন্যরাও চাপা হাসি দিয়ে তার সাথে হাত মেলাতে লাগলো। তারপর আগন্তক বার থেকে বের হয়ে গেল।

তারপর হঠাৎ দেখি, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় নীল ট্রাউজার আর লাল গেঞ্জি পরে একটি ভারী কালো বস্তা ঘাড়ে নিয়ে সিড়িঁ দিয়ে টিউব ষ্টেশনের দিকে নেমে যাচ্ছে। আমি তার পিছনে ছুঁটছি।

দ্রুত নামতে গিয়ে, সিড়িঁ থেকে পড়ে গেলাম। ঘুম ভেঙ্গে গেল। যে সোফাটার উপর ঘুমাই, দেখি সেখানেই শুয়ে আছি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

টিভি চলছে। ইংল্যন্ড-নেদারল্যান্ড খেলা সবে শেষ হয়েছে। ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেন কিছু বলছেন।

যারা টিভি দেখছিল তাদের সাথে স্বপ্নটি শেয়ার করলাম। জানতে চাইলাম এ স্বপ্নের মানে কী? তারা বললেন, এ স্বপ্নের মানে আমরা জেনে গেছি। আপনার উচিৎ ছিল আজ চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী ষ্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকা।

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
০১.০৪.২০১৪


Comments are closed.