>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ জাসদ এর নির্বাচনী ইশতেহার

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

‘সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন ও
পরিবর্তনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখাই আমাদের লক্ষ্য’

প্রিয় দেশবাসী,

সংগ্রামী সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।

Jasod Logoজাতীয় জীবনের এক বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আপনারা জানেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক গণরায় নিয়ে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। মহাজোট সরকারের ক্ষমতায় আসা এবং সরকার গঠনের বিষয়টি প্রথম দিন থেকেই বিএনপি-জামাত জোট এবং গণতন্ত্র বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী শক্তি মেনে নেয়নি।

শুরু থেকেই মহাজোট সরকারকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সরকারকে উৎখাতের নানারকম ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা শুরু হয়। বিডিআর হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়ে সরকারকে বিপদগ্রস্ত করার অপচেষ্টা হয়। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে উস্কানী দেয়া হয়- যা ব্যর্থ অভ্যূত্থানের অপচেষ্টা পর্যন্ত গড়ায়।

কেন মহাজোট সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামাত সহ্য করেনি? মহাজোট সরকার ৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসনের কলংক ও বুটের ছাপগুলি মুছে ফেলে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে নেয়া এবং ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক, আইনগত, বিচারিক, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ, নারী, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতসহ আর্থ-সামাজিক-অবকাঠামোগত ক্ষেত্রেও সরকারের ব্যাপক পদক্ষেপ এবং অভূতপূর্ব উন্নয়ন ওদের সহ্য হয়নি।

দুই বছর পূর্বে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট ৫ম সংশোধনী বাতিলের মামলায় ৫ম, ৭ম ও ৮ম সংশোধনীর বিভিন্ন অংশসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার রায় দেয়। সুপ্রীম কোর্টের এ রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ পরবর্তী দুই মেয়াদের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারবে, কিন্তু কোনভাবেই বিচারবিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারবে না। সুপ্রীম কোর্টের এ রায়ের পর সংবিধান সংশোধনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সংসদের উপর বর্তায়। সংসদ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের প্রতিনিধিসহ সংবিধান সংশোধনের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয়। কিন্তু বিরোধী দল, সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটিতে প্রতিনিধি প্রেরণ করেননি। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনা এমনকি সংসদ সদস্য নন এমন বরেন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনবীদদের সাথে আলোচনা শেষে ১৫দশ সংশোধনী গৃহিত হয়। এ সময়ও বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সংসদের ভিতরে, সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটিতে বা সংসদের বাইরে উত্থাপন করেনি। সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পর পুরাতন ধাঁচের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সাবেক প্রধান বিচারপতি বা সাবেক বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেইÑ তা জেনেও জ্ঞান পাপী বা মূর্খের মত বিএনপি পুরনো ধাচের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করার গোঁ ধরে।

বিএনপি-জামাত জোট আজ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করলেও শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-সন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাতের পথ গ্রহণ করে। তারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির আড়ালে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করার জন্যই সরকারকে বাধাগ্রস্ত ও উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক পথে পা বাড়ায়। এই ষড়যন্ত্রের ধারায় হেফাজতে ইসলাম এর উত্থান হয়, যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধীতার পাশাপাশি উদার গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক-সামাজিক চেতনা এবং নারী অধিকারসহ সামাজিক প্রগতি-অগ্রগতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান গ্রহণ করে।

সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন অন্তবর্তী সরকারের বিষয়ে সংসদের ভিতরে-বাইরে আলোচনা-সমঝোতার প্রস্তাব তারা বরাবরই এড়িয়ে গেছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোন রূপরেখা দেয়াসহ কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও হাজির করেনি। তারা কালক্ষেপন করেছে- যেন নির্বাচন অনুষ্ঠান অনিশ্চিত হয়। দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেয়া যায়।

বিএনপি কর্তৃক আলোচনা-সমঝোতার সকল সুযোগ ধ্বংস করে দেয়ার পর সরকার সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান এবং নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।

তফসিল অনুযায়ী দেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আর কোন বিকল্প নেই। এ নির্বাচন অনুষ্ঠান না হলে সাংবিধানিক শুন্যতা তৈরি হতো। দেশের কোন বিবেকবান মানুষ দেশে সাংবিধানিক শুন্যতা তৈরি হোক এটা কামনা করতে পারে না।

আপনারা জানেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী রাজনৈতিক দল। বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম-স্বাধীকার আন্দোলন-স্বাধীনতা সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধের বিপ্লবী ধারা হিসাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর উত্থান। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে সামনে রেখে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে জন্মলগ্ন থেকেই সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে সংকট মোকাবেলায় ঐক্য এবং সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে ভূমিকা রেখেছে।

মহাজোট সরকারের শরীক হিসাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মহাজোটের শাসনামলে ক্ষেত্রবিশেষে সুশাসনের অভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতি রোধে ব্যর্থতা স্বীকার করে। সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত এবং দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করাকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসাবে মনে করে। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি-জামাত-হেফাজত যেভাবে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধীতা করে মানবতা ও ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে তা দেশে সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি হিসাবে দেখা দিয়েছে। তাই আজ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ জাতীয় জীবনের এই বিশেষ মূহুর্তে সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত এবং দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করার প্রত্যয় ধারন করেই গণতন্ত্র বিরোধী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের ধারা এবং জঙ্গীবাদ-মৌলবাদকে পরাজিত করে সংবিধানকে সমুন্নত রাখা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করাকে জাতীয় কর্তব্য মনে করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর প্রার্থীদের ৪ জন ১৪ দলীয় ঐক্যের ধারায় ১৪ দলের অভিন্ন প্রতীক নৌকা এবং ১৯ জন প্রার্থী দলীয় প্রতীক মশাল নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও ৩ টি নির্বাচনী এলাকায় জাসদ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন প্রদান করছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে একটি ন্যূনতম জাতীয় কর্মসূচির ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে সরকার গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং সেই সরকারে অংশগ্রহণ করবে। সরকারে অংশগ্রহণ করলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ দলের নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে নিম্নের বিষয়গুলোতে সরকারের ভিতরে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এর পাশাপাশি দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ ধারাবাহিকভাবে সংসদের ভিতরে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষক-নারীর পক্ষে ভারসাম্য সৃষ্টি, সরকারের নীতি নির্ধারণে জনআকাংখার প্রতিফলন ঘটানো, বিশেষ করে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষক-কৃষি শ্রমিক-শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবী-মেহনতি মানুষ-কৃষি ও শিল্পে দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী-নারী-ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী সহ সমাজের শোষিত বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা, সরকারকে জনগণের প্রতি সংবেদনশীল ও গণমুখী রাখার জন্য নিম্নের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালাবে।

 রাষ্ট্রীয় মূল নীতি অনুসরণ
সরকার পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিধৃত মূল রাষ্ট্রীয় চার নীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ অনুসরণ করা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘পরিকল্পিত জাতীয় অর্থনীতি’ এবং ‘সামাজিক অর্থনীতি’ অনুসরণ করা। মৌলিক মানবাধিকার বিরোধী সকল কালাকানুন বাতিল করা।

 যুদ্ধাপরাধের বিচার
১৯৭১ সালে জাতির ওপর পরিচালিত যুদ্ধাপরাধ-গণহত্যা-গণধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত ও সম্পন্ন করার ভূমিকা রাখবে।

 জঙ্গীবাদ দমন
জঙ্গীবাদ ও জঙ্গীবাদী নেটওয়ার্ক সমূহ ধ্বংস করে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জঙ্গীবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা।

 ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি
সকল নাগরিকের নির্ভয়ে শান্তিতে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা। মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা সহ সকল ধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে ধর্মীয় উপসনালয়ের পবিত্রতা ও শান্তি নিশ্চিত করা, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার বন্ধ করা, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ফতোয়াবাজী নিষিদ্ধ করা।

 ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার
ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নাগরিকদের মধ্যে সকল ধরণের বৈষম্যের অবসান করা, শত্র“ সম্পত্তি আইন বাতিল করা, পার্বত্য চট্রগ্রাম শন্তি চুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা, সমতলের আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমির ওপর ঐতিহ্যবাহী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ল্যান্ড কমিশন গঠন, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।

 মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয়কে অমীমাংসিত না করা ও ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত ও অস্বীকার না করা, মুক্তিযুদ্ধে যার যা অবদান তার স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা সহ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, আর্থিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ-শহীদ পরিবার-মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তালিকা প্রণয়ন করা এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা।

 স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন
জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারকে সকল বিষয়ে সংসদের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটি সমূহ গঠন এবং সংসদীয় কমিটি সমূহের প্রকাশ্য গণশুনানীর ব্যবস্থা চালু করা, ৭০ ধারা সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভূমিকা নিশ্চিত করা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সকল বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন কাউকেই আইনের উর্ধ্বে ওঠার সুযোগ বন্ধ করা এবং সকল মানুষের অধিকার রক্ষা বা অধিকার খর্ব হলে প্রতিকার পাবার ব্যবস্থা করে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালাবে। সংবিধানের ৫৫ এর ২ ধারা সংস্কার করে মন্ত্রী পরিষদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় জাসদ ভূমিকা রাখবে।

 আইন-শৃংখলা
আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া, এ সকল সংস্থার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা, ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত ও প্রসিকিউশন পৃথক করা, পুলিশ বিভাগ সংস্কার-পুনর্গঠন-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করার জন্য পুলিশ কমিশন গঠন করার প্রচেষ্টা চালাবে।

 দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় সমর্থন
জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে সরকারের ভিতরে প্রথম দিন থেকেই সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজারের ওপর জনগণের ভাগ্য ছেড়ে না দিয়ে মানুষ বাঁচাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাপন ব্যয়ের লাগামহীন উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, নিত্যপ্রয়াজনীয় দ্রব্য সমূহের চাহিদা ও মজুদের পরিমাণ নিরূপণ করে সার্বক্ষণিক নজরদারী ও শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চাহিদা মত বিদেশ থেকে আমদানী ও আভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্য প্রথম বাজেটেই বরাদ্দ করা, টিসিবিকে সক্রিয় করা, গ্রাম ও শহরে শ্রমিক-কর্মচারী-কৃষি শ্রমিক-নিম্ম আয়ের মানুষ-বস্তিবাসীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক ও দুস্থ নারীদের জন্য ভাতার সংখ্যা ও পরিমাণ বৃদ্ধি, টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা, কৃষি উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখা ও বৃদ্ধির জন্য চাহিদা মত সার-বীজ-ডিজেল সহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবারহ নিশ্চিত করতে প্রথম বাজেটেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা, বিএডিসিকে সক্রিয় করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।

 সংসদ ও নির্বাচন পদ্ধতি সংষ্কার
বর্তমান এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বদলে শ্রমজীবী-কর্মজীবী-পেশাজীবী-নারী-ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা-আদিবাসী-স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে সংসদে উচ্চ কক্ষ গঠন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালু। বর্তমান সংসদ গঠনের জন্য অঞ্চল ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বদলে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালু।

 স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ
জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠান সুনিশ্চিত করা, জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে তাগিদ ও সহযোগিতা প্রদান করা, স্থানীয় সরকারের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সহ মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের সকল ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারী বন্ধ করে স্থানীয় সরকার কমিশনের ওপর স্থানীয় সরকার সমূহকে গতিশীল দায়বদ্ধ ও শক্তিশালী করার সকল দায়িত্ব অর্পণের প্রচেষ্টা চালাবে।

 দুর্নীতি মোকাবেলা
জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে লোকবল ও প্রশিক্ষণ দিয়ে শক্তিশালী ও স্বাধীন করা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-নেত্রী, সচিব, সরকারী অধিদপ্তর-পরিদপ্তর-বিভাগ-সেক্টর কর্পোরেশনের প্রধান থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের ক্ষমতাবানদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী প্রতি বছর প্রকাশ করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ক্ষেত্র ও উৎসগুলো চিহ্নিত করে সে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারীর ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টা চালাবে।

 বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা
ইতিমধ্যে বিগত সরকার বিদ্যুৎখাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবোচিত সম্ভাব্য সকল উপায়কে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রচেষ্টা চালাবে। জাতীয় সম্পদ গ্যাস-কয়লার ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে একটি সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালাবে।

 শিক্ষা ও তরুণদের ভবিষ্যত নির্মাণ
জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ণ করার প্রচেষ্টা চালানো। দেশের প্রতিটি তরুণের জন্য নিশ্চিত ভবিষ্যত গড়তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মত মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত, শিক্ষা শেষে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা, স্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা যাতে করে প্রতিটি তরুণ যেন বেকার না থাকে এবং জাতীয় উন্নয়ণ, সমাজ ও পরিবারের জন্য অবদান রাখার সুযোগ নিশ্চিত হয়।

 কর্মসংস্থান
গ্রাম-শহর, শিক্ষিত-নিরক্ষর, দক্ষ-অদক্ষ নির্বিশেষে সকল কর্মক্ষম নাগরিকের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড প্রদান করা, প্রতি পরিবারে কমপক্ষে একজনের জন্য বছরে অন্তত ১০০ দিনের নিশ্চয়তা সহ কাজের ব্যবস্থা করা। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করা এবং বিদেশে শ্রম বাজার সৃষ্টির জন্য বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা। কর্মসংস্থান কমিশন গঠন করা।
বিদেশ থেকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রবাসীদের কর্মস্থলে অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা, প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা, প্রবাসীদের দেশে আসা যাওয়ার পথে বন্দরে এবং এলাকায় বিশেষ মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রদান করা।

 নারী সমাজের উন্নয়ন
নারীর প্রতি বৈষম্যমুলক সকল আইন বাতিল করা, নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, জাতীয় সংসদে ৩৩% ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ ও সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থায় ৩৩% ভাগ প্রতিনিধিত্ব নারীদের জন্য সংরক্ষণ, রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন সহ সকল প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় ৩৩% ভাগ প্রতিনিধিত্ব নারীদের জন্য সংরক্ষণ, কর্মজীবী নারীদের জন্য সবেতন ৬ মাস মাতৃত্বকালীণ ছুটি, সম কাজে নারী-পুরুষ সমান মজুরী চালু।

 শ্রমিক ও নারী শ্রমিক
শহর-গ্রাম, কৃষি-শিল্প-সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক, নারী-পুরুষ, সরকারি-বেসরকারি-ইপিজেড নির্বিশেষে সকল ক্ষেত্রের শ্রমিকের শ্রমিক হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যূনতম জাতীয় মজুরি চালু করা। অপ্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষিক্ষেত্রে শ্রম আইন চালু করা। নারী শ্রমিকের সম কাজে সম মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

 হতদরিদ্র, নগর দরিদ্র ও বস্তিবাসী, গ্রামীণ ভূমিহীন ও বাস্তুহারা
বস্তিবাসীর রেজিস্ট্রেশন করা, পুনর্বাসন ব্যতিরেকে হকার-বস্তি উচ্ছেদ না করা, বস্তিবাসীর জন্য মৌলিক পরিসেবা নিশ্চিত করা, আবাসন প্রকল্প চালু করা। গ্রামীণ ভুমিহীন ও বাস্তুহারাদের খাস জমিতে পুনর্বাসন করা। হতদরিদ্রদের জন্য সকল ব্যাংকের মোট আমানতের ৫% দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগ করা। দুর্যোগ তহবিল গঠন করা।

 প্রতিবন্ধীদের অধিকার
পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের কোন ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধীরা যেন কোন ধরনের অবহেলা-বৈষম্যের শিকার না হয় তার জন্য প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধীদের সমর্থন প্রদান।

 জনস্বাস্থ ও জনসংখ্যা
সকল নাগরিকের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ কার্ড প্রদান করে সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুযোগ নিশ্চিত করা। উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত সহজলভ্য করা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে কমিয়ে নেতিবাচক হারে আনার জন্য পরিবার পরিকল্পপনা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 সামষ্টিক অর্থনীতি
জাতীয় উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ জাতীয় অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করা। ব্যক্তি-সমাজ-বাজার-রাষ্ট্রের সমন্বয় ও পরিকল্পনার আওতায় কাঠামোগত অন্যায্যতা দূর করার দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় মালিকানায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পুনরায় চালু করা। বিদেশী ঋণ ও ঋণসহায়তা গ্রহণ ও ব্যবহার, বরাদ্দ ও ব্যয় এবং সুদ ও পরিশোধ বিষয়ে জাতীয় কমিশন গঠন করা। জনগণকে অবহিত না করে এবং জাতীয় সংসদে আলোচনা না করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি না করা। জাতীয় অর্থনীতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাতের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্প ও সেবাখাতকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে পরিচালনা করা। অবাধ আমদানী নীতি ও অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কঠোরভাবে বন্ধ করা। অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রের অর্থায়ন, প্রযুক্তি সহায়তা ও আধুনিকায়নের জন্য কমিশন গঠন করা।

 জাতীয় শিল্প
ম্যানুফ্যাকচারিং সহ ক্ষুদ্র-মাঝারি ও বিকাশমান শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ দেশজ মালিকানাকে ব্যাপক সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা। আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আমদানি শুল্ক আরো বাড়ানোর জন্য সরকারের স্বাধীনতা বজায় রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। দেশজ মালিকানার শিল্প সংরক্ষণে ঋণ ও অবকাঠামো সুবিধা এবং কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা দেয়া। বিশ্বের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। কর্মসংস্থান, আভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবার ব্যবহার ও ব্যালেন্স অব পেমেন্ট দেশের অনুকূলে রাখার শর্তে বিদেশী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। বিদেশী বিনিয়োগকে আভ্যন্তরীণ নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা। দেশজ টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশে এবং গার্মেন্টস খাতের অগ্র-পশ্চাদ শিল্প গড়ে তোলায় সহায়তা দেয়া, গ্রামীণ তাঁত শিল্পকে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করা। চিনি ও পাট শিল্প পুনরুদ্ধার করা। পাট কমিশন গঠন করা ও বাজেটে বিশেষ থোক বরাদ্দ দেয়া। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ন্যূনতম ৫০০০ কোটি টাকার শিল্পায়ন তহবিল গঠন করা এবং যতদিন বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত না হয় তত দিন তা ১০% হারে বাড়ানো। শিল্প ঋণের সুদের হার বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয় সুদের হারের ২%-এর বেশি না করা এবং কোনক্রমেই মোট ৮%-এর বেশি না করা।

 কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও অকৃষি খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের বাজার অভিজ্ঞতা ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে তাদের ‘বাজারজাতকরণ সমবায়’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও সর্বোচ্চ পুঁজি-প্রযুক্তি সহায়তা দেয়া। সার-বীজ-ডিজেলসহ কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ন্যায্যমুল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। জেলে ও কৃষকদের স্বার্থে বাজার-হাট-মাঠ-ঘাট-হাওড়-বাওড়-খাল-বিল-নালা ইজারা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে সহায়তা ও বাজার প্রবেশাধিকারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। সবজি-ফল-ফুল এবং পোলট্রি-ডেইরি-ফিশারী খাত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা এবং রপ্তানিতে সহযোগিতা করা। মোট কৃষি উৎপাদনের মূল্যের ১০% কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ৩০% সহায়তা দেয়া। পল্লী ব্যাংক প্রথা চালু করা।

 সেবাখাত
শিক্ষা-চিকিৎসা-পানির মতো মৌলিক সেবা খাত থেকে রাষ্ট্রের হাত গুটিয়ে নেয়ার নীতি পরিহার করা। বাংলাদেশের সেবাখাতকে অর্থনীতির প্রধানতম, বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে একে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা। সেবাখাতে অতীত উদারীকরণের মূল্যায়ন না করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর পরামর্শে নির্বিচার উদারীকরণ বন্ধ করা। স্বল্পদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিকের বিশ্বব্যাপী কাজের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। বিতরণ, পানি, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, হোটেল রেস্টুরেন্ট, পর্যটন, স্বাস্থ্য, বন্দর, গ্যাস সহ পৌরসেবা ও মৌলিক পরিসেবা বিদেশী কোম্পানির জন্য কোনক্রমেই উদার না করা।

 বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ণ করা, মংলা বন্দরকে সচল ও সম্প্রসারিত করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারিত ও আধুনিক করা, ট্রান্স এশিয়ান সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করা, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা।

 ভূমি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা
ভূমি সংস্কার এবং ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্রাম ও শহরের জন্য ভূমি ব্যবহার নীতি প্রণয়ন করা। ভূমি কমিশন গঠন করা। খাস জমি, সিলিং উদ্বৃত্ত জমি, বেদখলকৃত জমি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। কোন জমি বিদেশী কোম্পানির কাছে স্থায়ী হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা। বাজার-হাট-মাঠ-ঘাট-হাওড়-বাওড়-খাল-বিল-নালা ইজারা দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা। ভূমি প্রশাসন সংস্কার করা। ভূমি সংক্রান্ত আইনগত সমস্যা নিরসনে বিশেষ আদালত গঠন করা।

 পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তন
প্রাণবৈচিত্র, পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বিরোধী সকল কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ করা। অবকাঠামো সহ যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্থানীয় ও লোকজ জ্ঞানের ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা।

 পানি সম্পদ
নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদ্মা বহুমুখী বাধ, কালনী-কুশিয়ারা প্রকল্প ও উপকূলীয় বাধ পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করা। ভারত থেকে বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানি প্রবাহ ও বণ্টনে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ বাধ স্থগিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া সহ দক্ষিণ হিমালয় অঞ্চলে যৌথ পানি সম্পদ ব্যবহার, পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

 গ্যাস-কয়লা সহ জাতীয় সম্পদ
গ্যাস ও কয়লা সহ খনিজ সম্পদ এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করা। গ্যাস-কয়লা সহ অনুসন্ধান-উত্তোলন-বিপণনের ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানির সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল অসম গোপন উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি বাতিল করা। ইউনোকল ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা।

 পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক-উপআঞ্চলিক সহযোগিতা
জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সকল দেশের সাথে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। ভারতের সাথে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। সার্ক কার্যকর করা। উপমহাদেশীয় যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা-কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেয়া; এক দেশ কর্তৃক অন্য দেশের বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা না করা, অগ্রযাত্রার পথে ঝুলে থাকা অতীতকে বিযুক্ত করা ও সাম্প্রদায়িকতা বর্জন করা। সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে এবং সামরিক কাজে ব্যবহার না করার শর্তে আন্তর্জাতিক বিধান অনুসারে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পরস্পরের জন্য উন্মুক্ত করা। পারমানবিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা। বিশ্ব বাণিজ্য পরিসরে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ ও দরকষাকষি করা।

 জাতীয় নিরাপত্তা
জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণের অংশগ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বিত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা। ১৮ বছরের উর্ধে সকল নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

প্রিয় দেশবাসী,

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আগামী নির্বাচনে উল্লেখিত ইশতেহারের প্রতি আপনাদের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। জনগণের ভোটে জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে উল্লেখিত ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকারের ভিতরে ও বাইরে, সংসদের ভিতরে ও বাইরে নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালাবে এবং ঐক্য সংগ্রাম-ঐক্য নীতির ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ
৩৫-৩৬, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা-১০০০।
ফোন+ফ্যাক্স: ৯৫৫৯৯৭২

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
০২.০১.২০১৪


Comments are closed.