>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

চঞ্চল বাইপাস

আকতার হোসেন

Akhtar Hossainভীষণ জড়তা নিয়ে ছেলেটি দাঁড়িয়ে ছিল। আধ মাইল পথ হেটে এসে দেখে লাল রঙের টিপ পড়েছে মেয়েটি। সে বলল– কি হল ভেতরে আসবে না!

মেয়েটির ড্রইং রুমে ভীষণ নীরবতা। খুব অল্প কথা বলে ওরা, শুধু চেয়ে থাকে একে অন্যের দিকে। কানায় কানায় ভরা ছিল চিনা মাটির পেয়ালা। সেই মেয়ে চা ছাড়া অন্য কিছু বানাতে পারতো না। এক চুমুকে উড়ে গেল উষ্ণ ভালোবাসা – এক পেয়ালা কালো চা। ছেলেটি বলল জন্মদিনের উপহার পছন্দ হয়েছে – গরম উপহার।

বড় রাস্তার পাশে মেয়েটির বাড়ি। জানালা দিয়ে গাড়ি গোনা যায়। সেই পথ দিয়ে হেটে চলল পাকাপোক্ত বাইশ বছরের যুবক। কিছুক্ষণ পর বিকট একটা আওয়াজ। সেই থেকে মেয়েটি প্রতি রোববার কালো চা নিয়ে বসে থাকে জানালা খুলে – লাল টিপ পরে। তার পাশে থাকে সোমবারের খবরের কাগজ। ফ্রন্ট পেজে উঠেছিল খবরটি। ছেলেটির পকেটে ছিল লাল টিপ আর ঠোটে কালো চা। জীবনের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মেয়েটি বলেছিল প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনা এক একটি অপেক্ষার জন্ম দেয়। শেষ হয়েও শেষ হতে চায় না।

মেয়েটির বিয়ে হয়। চায়ের অতিরিক্ত অন্য কিছুও বানাতে শিখে যায়। একা একা গ্রোসারি করে আনে। টেলিফোন গ্যাস বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করে। ছেলে মেয়েদের স্কুল থেকে ড্রাইভ করে বাড়ি নিয়ে আসে। বেশ ব্যস্ত সংসার। সোহাগ (ছেলে) বয়স সাত আর স্নেহ (মেয়ে) বয়স পাঁচ, তাদের নিয়ে কানাডা থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসে। তার স্বামী বিয়ের আগে চা কফি কিছুই খেত না। এখন একটাই নেশা – কালো চা। প্লেনে বসে তিন কাপ চা খেয়েছে। মাঝে এয়ারপোর্টে পাঁচবার। চা খাবে আর বলবে কেন যে আমাকে চা খাওয়া শেখালে! কি মজা পাও অন্যের চা খাওয়া দেখতে।

ওদের রিসিভ করতে দুই পরিবার থেকে মোট সাত জন লোক এসেছে। আর এসেছে চঞ্চল নামের ছেলেটির মা। চঞ্চল তার একমাত্র ছেলে ছিল। ছেলেটির নামে একটি সড়কের নাম হয়েছে। চঞ্চল বাইপাস। চঞ্চলের মায়ের সাথে প্রীতির নিয়মিত যোগাযোগ হয়। প্রীতি বলেছিল এয়ারপোর্টে আসার দরকার নেই অনেকেই থাকবে। চঞ্চলের মা কথা রেখেছে এবং তাকে দেখতেও এসেছে। ‘দূর থেকে দেখব মা কাছে আসবো না’ এই কথা বলেছিল টেলিফোনে।

তার ছেলে বেঁচে থাকলে বাচ্চা দুটোর মাথায় হাত দিতে পারত, ওরাও তার বুকে দৌড়ে আসত। প্রীতির দুটো সন্তানের নামই চঞ্চলের মায়ের দেয়া। প্রীতি ছাড়া কথাটা কেউ জানে না। চঞ্চলের মায়ের মোবাইল ফোনে মেসেজ আসে। ব্যাগ হাতিয়ে মোবাইল তুলে নেয় সে। স্ক্রিনের লেখাটা সে ঝাপসা দেখে। maa, apni o vabey kadben naa.

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
১৩.১১.২০১৩


Comments are closed.