>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

উত্তম পুরুষে

আর. কে. নারায়ণ
অনুবাদ: আনিকা শাহ

R K Narayanগত কয়েক বছরে আর. কে. নারায়ণ বিভিন্ন জায়গার সাংবাদিক ও লেখকদের কাছে নিজের জীবন ও কাজ সম্পর্কে সাক্ষাৎকার দেওয়া এড়াতে পারেন নি। কিন্তু সেটা তিনি করেছেন গৃহস্থালি কাজের মতন— এমন কিছু যা-কিনা করতেই হবে; প্রকাশনার বাস্তব প্রয়োজনে, নিজের অহংবোধে হাত বোলানো বা আত্ম-উপলব্ধির জন্য নয়। তিনি সবসময়ই আনুষ্ঠানিক, কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারে অস্বস্তি বোধ করেছেন। সমগ্র বিষয়টাই তাঁর কাছে খুব ক্লাক্তিকর মনে হয়। শারীরিক ধকল না; জীবন ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁর লেখার পদ্ধতি ও কৌশল, লেখার ধরন, লেখায় লুকানো অর্থ— এসবের উত্তর-খোঁজা আনুষ্ঠানিক প্রশ্নগুলো তাঁর মানসিক শক্তির ওপর চাপ ফ্যালে।

তবে, নারায়ণকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছুক কোনো সাংবাদিক বা লেখক যদি আরেকটি পন্থা অবলম্বন করতে রাজি থাকেন— পরোক্ষ পন্থা, কেবল গল্প করে যাওয়া, তাহলে তিনি লেখককে কেবল দরাজদিলই পাবেন না, দেখবেন তিনি বেশ কৌতূহলী এবং অতিথিপরায়ণ। আমাদের কাছে যখন সাংবাদিকরা, বিশেষ করে ভিনদেশি সাংবাদিকরা আসেন, তাঁদের গল্পের জন্য নারায়ণকে রাজি করানোয় সাহায্য চাইতে, আমরা সচরাচর এই উপদেশ দেই,— “তাঁর সাক্ষাৎকার নেবার চেষ্টা করবেন না। টেপ রেকর্ডার চালু করে বসবেন না। সরাসরি কোনো প্রশ্ন করবেন না, তাঁকে বলবেন না নিজের কাজ ব্যাখ্যা করতে। তাঁর সাথে কেবল গল্প করুন। তিনি জানতে চাইলে নিজের সম্পর্কে বলুন।” এই পথে যাঁরা এগোন তাঁরা সাধারণত তাদের গল্প পেয়ে যান: যেহেতু নারায়ণ অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে বেশ সপ্রতিভ, যারা বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই দেখা করতে আসেন তাঁদের কাছে সুলভ।

লেখালেখি বিষয়ে
লিখতে আমার কোনো কষ্ট হতো না। যা লিখেছি তা ছাপানোর লোক খুঁজে পেতে কষ্ট হতো। আমি সবসময়ই জোর-জবরদস্তি ছাড়া লিখছি, মানে, ইচ্ছাকৃত চেষ্টা ছাড়া। কিন্তু লেখা কোথাও ছাপানো বা প্রকাশ করাটা বেশ কঠিন ছিল সে-সময়ে। সেসব দিনে যে-সমস্যাটা হতো, আমি যে-ধরনের লেখা লিখতাম, আমার পাঠকদের কাছে তার কোনো অর্থই দাঁড়াতো না। অনেকেই হতাশ হতো পড়ে। তবুও আমি লেগে ছিলাম, কারণ আর-কোনোভাবে আমি লিখতে পারতাম না।

তারা প্রেম, ষড়যন্ত্র— এসব বিষয়ে অভ্যস্ত ছিল, আর সেসবের তিলমাত্রও আমার লেখায় ছিল না। অধিকাংশেই বলতো, তোমার গল্পে কী আছে? তুমি লিখেছ খুব ইন্ট্রেস্টিং, কিন্তু কোনো শেষ নেই, শক্তিশালী কোনো ক্লাইম্যাক্স নেই-কিছু নেই। কী বোঝাতে চাইছো তুমি?

তবে এখন মনে হয় যে সমালোচকরা, পাঠকরা আমার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারে। আর গল্পের মধ্য থেকে আমি যতটুকু ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি কিছু খুঁজে পায়। আসলে একটা লেখা কখনোই কেবল লেখকের নিজের যাচাই করার বিষয় না। সেটা অন্যদের জন্য— লেখাটা কী প্রভাব ফেললো, মনের ভিতর কী নাড়িয়ে তুললো। ব্যাপারটা সকল ক্ষেত্রেই আলাদা।

ইংরেজিতে লেখালেখি বিষয়ে
আমার মনেই হতো না যে আমি কোনো বিদেশি ভাষায় লিখছি। ওই যে বইগুলো (বইয়ের তাক দেখিয়ে), ওগুলো আমাকে প্রভাবিত করতো, আর ওগুলো সব ছিল ইংরেজিতে। ইংরেজিতেই আমি বেশি স্বচ্ছন্দে লিখতে পারতাম। আর সে-সময়কার লন্ডনের সাহিত্য-জগৎ আমাকে মুগ্ধ করতো। সেই ত্রিশের দশক, যখন শ’, বেলক, বেনেট, চেস্টারটন, আরো অনেকের মাঝে অনেক মজার যোগাযোগ ছিল। তাদের নিয়ে কোনো-না-কোনো খবর সবসময়ই থাকতো।

লেখকের সংগ্রাম সম্পর্কে
এখন পিছনে ফিরে দেখলে, আমার সার্বক্ষণিক লেখক হয়ে পড়ার একগুঁয়ে সিদ্ধান্তে (১৯৩০ সালে) আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। প্রায় সব লেখকের জন্যই, ব্যাপারটা একটা সংগ্রাম। তামিল লেখকদের এখন এই অবস্থা… কিন্তু গোয়ার্তুমি করে হলেও টিকে থাকতে হয়। আর লিখতে হয়, লেখা যেমনই হোক না কেন। এক ধরনের তাড়না থাকে, নাহলে, কেনই বা লেখা? লিখতে হবেই। চিন্তা-ভাবনা করে শুরু করাটা যথেষ্ট না। লিখতে-লিখতেই লেখক হওয়া যায় কেবল; অনেকটা যোগব্যায়ামের মতো।

মালগুড়ি-সৃষ্টি সম্পর্কে
মালগুড়ির অস্তিত্বটা আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবো না। ওটা একেবারেই একটা আকস্মিক চিন্তা ছিল। এটা কোনো ফিক্সেশন না, কোনো স্থির ভূগোল নেই। আমার মনে হয় মালগুড়ির সীমানাটা খুব নমনীয়। নমনীয় সীমান্ত, নমনীয় সবকিছুই— শুধু দু’-চারটা স্থির বিষয়, এই-ই…

আমার মাথায় একটা রেলওয়ে স্টেশনের চিন্তা এসেছিল, একটা খুব ছোট রেলওয়ে স্টেশন। তুমি দেখেছ অমন— প্ল্যাটফর্ম, গাছপালা,  একজন স্টেশন মাস্টার। সেই রেলওয়ে স্টেশন যেখানে সোয়ামি যায় ট্রেনের আসা-যাওয়া দেখতে: এটাই ছিল মূল চিন্তা যেটা দিয়ে আমি ঝধিসর ধহফ ঋৎরবহফং শুরু করি। অবশ্য মূল বইয়ে এই দৃশ্যটা শেষে আসে, গল্পের একদম শেষটায়।

তারপর কী হলো, আমি স্টেশনটার জন্য একটা নামের কথা চিন্তা করতে লাগলাম। একটা নামফলক থাকতে হবে। আর আমি কোনো বাস্তব নাম চাচ্ছিলাম না যেটা রেলওয়ে টাইম-টেবিলে পাওয়া যাবে। এই ব্যাপারটা আমি এড়িয়েই যেতে চেয়েছিলাম, কেননা কোনো নাক-গলানো লোক এসে বলতো, “এই জায়গাটা ওখানে নেই, ও যে-দোকানটার কথা বলেছে সেটা তো ওখানে নেই।” সত্যিকারের শহর লেখকের জন্য ঝামেলার।

এই সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি, তখন বুদ্ধিটা এলো— মালগুড়ি অকস্মাৎ এসে দেখা দিল। মালগুড়ির কোনো অর্থ নেই। ত্রিচির কাছে লালগুড়ি বলে একটা জায়গা আছে, আর কুম্বকোনমের কাছে না কোথায় যেন মানগুড়ি বলে একটা জায়গা আছে। কিন্তু মালগুড়ি কোথাও নেই। এই ব্যাপারটা সাহায্য করেছিল আমাকে, আমার যাবতীয় শর্ত পূরণ করেছিল।

মালগুড়িতে পরিবর্তন নিয়ে
মন্দিরের বংশীবাদকের বদলে লোকে হয়তো এখন ট্রানজিস্টর রেডিও শোনে। বা ট্রানজিস্টরের পরিবর্তে তাদের থ্রি-ইন-ওয়ান রেকর্ডার আর ক্যাসেট আছে। গাঁয়ের লোকেরা মাঠে ক্যাসেট শুনছে এমন তো এখন দেখাই যায়। কিন্তু মানুষগুলো বদলায় নি। মানুষের ধরন একই আছে। ফলে আমার চরিত্রগুলোও বিদ্যমান আছে। অন্তত মালগুড়িতে খুব বেশি বদল ঘটে নি। আর মালগুড়ির মতো শ’খানেক ছোট ছোট শহর সবখানেই আছে।

গ্রাহাম গ্রীনকে নিয়ে
ও আমার (লেখালেখি) জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, একদম কেন্দ্রে। (১৯৯১-এ গ্রীনের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে স্মৃতিকথা লিখবার জন্য একটা ব্রিটিশ পত্রিকার আমন্ত্রণ পেলে:) এখন আমি গ্রাহামকে নিয়ে কী করে লিখবো? আমরা এত দীর্ঘ সময় ধরে একে-অপরকে জানি, আর আমাদের বন্ধুত্ব এত ব্যক্তিগত।
আমার বেশ ক’বার ওর সাথে দেখা হয়েছে— কিন্তু তাও আমাদের চিঠি লেখালেখি শুরু হবার বিশ বছর পর। ওর সাথে দেখা করার প্রয়োজনটাই অনুভব করতাম না আমি: চিঠির মাধ্যমেই এত কাছাকাছি চলে এসেছিলাম আমরা, আমি কোনোকিছু মিস করি নি।

গ্রাহাম গ্রীন উপন্যাসের জন্য ছবির মতো, কাব্যিক বা ভাবপ্রবণ নাম চাইতো না… নাম হতে হবে ড্রাই ওয়াইনের মতো। ও সবসময়ই বলত, “এই নামটা যাচ্ছে না।” যেমন ঞযব ঊহমষরংয ঞবধপযবৎ এর জন্য আমি প্রথমে যেই নামটা ভেবেছিলাম সেটা হলো “ঔধংসরহব ঐড়সব”।

গ্রীন আমার লেখা সংশোধন করে দিত। ও আমাকে বলেছিল (১৯৫৬-এ দেখা হলে), “তুমি একজন অমনোযোগী লেখক। মাঝে-মাঝে সঠিক শব্দটা খুঁজে বের করার কষ্টটুকুও তুমি করতে চাও না— একটা বাক্য শেষ করার কষ্টটুকুও করো না।” ও সবসময় প্রুফগুলো দেখে দিত; আমার কখনো কোনো প্রুফ দেখতে হয় নি (ইউ.কে. সংস্করণের বইগুলোর)। গ্রীনের করা কোনোকিছু আমি পাল্টাতাম না।

ওর লেখা একশ’রও বেশি চিঠি আছে আমার কাছে। প্রত্যেকটা বইয়ের জন্যই ও নিজের ধারণা, প্রতিক্রিয়া লিখে জানাতো। ও-ই বলেছিল যে ““ইধহুধহ ঞৎবব”টা  (““টহফবৎ ঃযব ইধহুধহ ঞৎবব” নামের ছোটগল্পটা) আমার সংকলনে যোগ করা উচিত। গধষমঁফর উধুং (প্রথম সংকলন) প্রকাশিত হবার পর ওর একটা চিঠি পেয়েছিলাম। ও বলেছিল, ‘বটগাছ’টা মিস করছি— ওটা তো আসলে আমাদের গল্পবলিয়েদেরই গল্প।” তো আমি পরের সংকলনে ওইটা যোগ করে দিয়েছিলাম, আর ভাইকিং বইয়ের নাম হিসেবে ওটাই পছন্দ করেছিল।

মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে
খুব ন্যায়পরায়ণ, খুব নাজুক, খুব অলৌকিক একজন মানুষ। ভারতের (স্বাধীনতার জন্য) রাজনৈতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে আমার কাছে চিত্তাকর্ষক ব্যাপার ছিল মহাত্মা গান্ধীর নিজস্ব উপস্থিতি এবং তাঁর বিশাল জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করার, প্রভাবিত করার ক্ষমতা।  সব ধরনের মানুষ তাঁকে অনুসরণ করতো। আমার গল্পে দু’-একটা চরিত্র আছে যাদের রাজনীতিতে নাম লেখাবার নিজস্ব অভিসন্ধি ছিল।

ডধরঃরহম ভড়ৎ ঃযব গধযধঃসধ পড়েছ? সে-সময়ে আমি গান্ধীর ওপর খুব গবেষণা করেছিলাম। তাঁর ওপর লেখা সব বই পড়ে ফেলেছিলাম, আর প্রকাশিত সব চিঠিপত্র। একটা পটভূমি তৈরি হয়েছিল মাথায়। তারপর উপন্যাসটা লিখলাম।

তবে গান্ধীও আমাকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত করেন নি। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করতাম, জনগণের কাছে তাঁর ভূমিকার জন্য— তিনি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলে দক্ষ ছিলেন। মাঝে মাঝে তিন-চার শ’, হাজার লোক তাঁর কথা শুনতো, তা-ই করতো যা তিনি চাইতেন তারা করুক।

আমি তাঁর প্রচারিত কিছু কিছু জিনিস পছন্দ করতাম না। তাঁর হাতে-বোনা-তাঁত আর শিল্পায়ন-বিরোধিতায় বিশ্বাসী ছিলাম না। নেহরুও এইসব বিষয়ের বিরোধী ছিলেন। গান্ধী বিশ্বাস করতেন যে-যার প্রয়োজন-মতো সুতা বয়ন করেই সব সমস্যার সমাধান করা যাবে। আর তিনি আশেপাশের সব আধুনিকায়নেরও বিপক্ষে ছিলেন। তিনি কখনোই আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করেন নি। বলতেন যে, “গরিব মানুষ এসবের ব্যয় বহন করতে পারবে না।”

নিজের লেখালেখির বিকাশ সম্পর্কে
আমার লেখার বিকাশ? সেটা এখন আমি খুব স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো না। কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভবও না। তবে আমার মনে হয় যে সময়ের সাথে সাথে, এবং আমাদের অভিজ্ঞতার পরিবর্তনের সাথে সাথে, লেখাগুলো গভীরতা পায়। আমি বলছি না যে আমার লেখা খুব গভীর হয়েছে বা সাহিত্যিক মূল্যে বেড়েছে, কিন্তু, কোনো-না-কোনোভাবে, এখনকার গল্পে পুরাতন গল্পের চাইতে গভীরতা বেশি।

আমি জানি না এটা বিকশিত হওয়া নাকি আরো পিছনের দিকে যাওয়া। আমি ঠিক নিশ্চিত না। আমি আমার লেখালেখির ব্যাপারে একেবারেই স্ব-চেতন না। প্রথমদিকে তো অচেতন লেখালেখিই চলত বলতে গেলে। এমনকি এখনও, যখন লিখি, আমি ঠিক জানি না একটু পর কী হবে। কিন্তু টেকনিক্যালি এখন আমার লেখালেখির উপর আরেকটু বেশি নিয়ন্ত্রণ আছে।

‘উদ্দেশ্যপূর্ণ’ লেখালেখি নিয়ে
সব লেখক মনে করে তারা কোনো লক্ষ্যে নিয়োজিত। আমি, একেবারেই না। আমি লিখি কারণ আমি এক ধরনের চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হই, এবং একেকটা মানুষ নিজেকে যে-গুরুত্বের সাথে নেয় সেটা আমাকে কৌতূহলী করে।

আমি ভিতর থেকে লেখার চেষ্টা করি, এমনকি একজন ভিলেনেরও, তার দৃষ্টিভঙ্গিটাও দেখার চেষ্টা করি, এই-ই। কিছু পরিমাণ আইডেন্টিফিকেশন… তাদের পরিচয়টা বোঝা। আমি বিরোধিতা করতে পারবো না, কেননা আমি তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছি। এ-জন্যই আমি যদি এমনকি একজন রাজনীতিবিদ সম্পর্কেও লিখি, সেটা তার জন্য ন্যায্য হবে (হাসি)।

রাজনীতি, আমার মতে, জীবনের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় দিক। এ-কারণেই সাহিত্যের বিষয়বস্তু হিসেবে আমি একে খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। কেননা অধিকাংশ রাজনীতি-অনুপ্রাণিত উপন্যাসই ঝরে যায়, টিকে থাকে না। কেবল মানবিক উপাদানগুলোই থেকে যায়, রাজনৈতিক চাপ বা ধারণাগুলো না। সেগুলো স্রেফ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

বাচাল লোকটা সম্পর্কে
বাচাল লোকটা— সে অনেকগুলো ছোটগল্পেই আছে: যখনই কোনো অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার বয়ান দেবার দরকার হয়, বাচাল লোকটা কথা বলে। সে খুব ভালো লিংক, সবাইকে সংযুক্ত করতে পারে। সারা শহরে বাতাসের মতো ঘুরে বেড়ায় সে; অনেককেই সে চেনে। বিভিন্ন পটভূমি, ব্যক্তিত্ব, ল্যান্ডমার্ক সে একত্রে গেঁথে ফ্যালে বিশ্বাসযোগ্যভাবে। সবার সাথেই তার খাতির।

যাপন বিষয়ে
দ্যাখো, পঞ্চাশ বছর কিছুই না। তোমার কাছে অনেক বেশি মনে হতে পারে, তোমার বয়স কম। কিন্তু যখন পঞ্চাশ বছর পার হয়ে যায়, তখনও সব একইরকম মনে হয়— সময়ের মায়া আর কি! আমরা যা, তা-ই। যতই তুমি বড় হতে থাকো, ক্ষয়ে যেতে থাকো, ভিতরে সচেতনতার বোধটা, অস্তিত্বের বোধটা একই থাকে।

আমি মাদ্রাজের সাত বছরের আমি’র সাথে এখনকার মহীশূরের আমি’র কোনো তফাৎ পাই না। ভেতরের লোকটা একই আছে, অপরিবর্তিত। অন্যেরা প্রায়-টাক-পড়ে-যাওয়া মাথা দেখে, একটু কুঁজো-হওয়া দেখে, আর বলে, তুমি বেঁচে আছো কী করে?

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
২৪.১০.২০১৩


Comments are closed.