>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

তুরস্কের তীব্র সমালোচনা ইইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

Turkey and EU Flagতুরস্ক ও ইউরোপের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদনে তুরস্ক সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তুরস্কে বিচারবিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে।

ইইউ’র বার্ষিক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তুরস্কের বিচার ব্যবস্থার সংস্কার কর্মসূচি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তাহলে এ বিষয়টি সেদেশের বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ অবস্থায় তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকতে ইউরোপের দাবি অনুযায়ী বিচারবিভাগে সংস্কার করতে পারবে কিনা সেটাই এখন সবার প্রশ্ন। ইউরোপ এমন সময় তুর্কি সরকারের সমালোচনা করলো যখন সেদেশটির সরকারের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায়ই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তুরস্কে গোত্রীয় ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় এবং বিচারবিভাগে অব্যবস্থাপনার কারণে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, তুরস্কের সরকার ও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী পিকেকে গেরিলা গোষ্ঠীর মধ্যে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি এবং তাদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে এসব বিষয় তুরস্কের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব তুরস্কের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ করে সাইপ্রাস নিয়ে বিতর্কের এখনো অবসান হয়নি। এ ছাড়া, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কারণেও তুরস্কের জনগণ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তুরস্কের পিপলস রিপাবলিক দলের নেতা কামাল কিলিচদার ওগলু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার সিরিয়ার যে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে তারা তুরস্কের জন্য বিরাট বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তুরস্কের সোনালী যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং দেশটির অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ল্যামন্ড সাময়িকী লিখেছে, বহু বছর ধরে যে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল পাঁচ শতাংশ এমনকি কখনো কখনো আট শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল সেদেশটির অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালে তুরস্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এ থেকেই তুরস্কের অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। অর্থনীতির এ বেহাল দশা প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় এরদোগান বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা সেটাই এখন সবার প্রশ্ন। এ ছাড়া, তিনি আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে তুরস্ককে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের কাতারে নিয়ে যাবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়টিও সরকারের জন্য আরেকটি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে যেসব বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সরকারের হাতে এখন আর তেমন সময় নেই। তুরস্কের কর্মকর্তারা এবং রাজনীতিবিদরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে সেদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দিনদিন হতাশ হয়ে পড়ছেন। তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আগম্যান বাগিশ সম্প্রতি বলেছেন, তার দেশ হয়তো কখনোই ইউরোপীয় ইউনিয়নভু দেশ ক্ত হতে পারবে না।

-রেডিও তেহরান

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
১৭.১০.২০১৩


Comments are closed.