>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

দেশের সংকট বিদেশে নিতে চায় না আওয়ামী লীগ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

AL Party Flagদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট বিদেশে নিয়ে আলোচনার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহল। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকালে জাতিসংঘে কোনো সমঝোতা বৈঠকে অংশ না নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির নেতারা। বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে। তিনিও বিদেশে নিজ দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে বিদেশীদের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী নন বলে জানা গেছে। ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নিজেদের সমস্যা দেশের বাইরে নিয়ে গেলে জনগণ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। আর তাই সব ধরনের উদ্যোগ থাকার পরও জাতিসংঘে বিএনপির সঙ্গে কোনো সমঝোতা বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় কিনাÑ সে নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চান সংবিধানের আলোকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের এ ইস্যুতে কিছুটা ছাড় দিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে মত রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও তার অবস্থানেই অটল আছেন।

তিনি কোনো রকম ছাড় দিতে নারাজ। গণভবন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে বিদেশী নেতাদের সঙ্গে দেশের চলমান এ রাজনৈতিক সংকট নিয়ে কোন আলোচনায় করতে চান না প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার কাছে তথ্য আছে এ ইস্যুতে জাতিসংঘে কূটনীতিকরা সমঝোতার উদ্যোগ নিতে পারেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিউইয়র্ক সফর কর্মসূচি বাতিল করেন। চলতি সংসদ অধিবেশন এবং সাংগঠনিক কাজের ব্যস্ততার যুক্তি দিয়ে সফর কর্মসূচি বাতিলের সংবাদটি গণমাধ্যমকে জানানোও হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নেতিবাচক মন্তব্য করা হলে নিউইয়র্ক সফর কর্মসূচি পুনর্বহাল করা হয়। তবে এ সফরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে কোনো আলোচনায় প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা তার দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন না বলে গণভবন সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ = বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক সফরকালে জাতিসংঘের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকের সম্ভাবনার কোনো তথ্য তার জানা নেই। তিনি মনে করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার বিষয়ে দেশের মধ্যেই আলোচনা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই আমাদের অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই বসে নিজেদের সমস্যা সমাধান করলে সেটা ভালো হয়।

দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকালে নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সংলাপ দেশেই হওয়া উচিত। এ নিয়ে সংসদেও আলোচনা হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ঈদের পর পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইস্যুতে দেশের বিরাজমান চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে অন্তর্র্বতী সরকার গঠন হতে পারে। সেক্ষেত্রে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে কোনো বাধা নেই। তার মতে সংবিধানের আলোকেই সমাধান সম্ভব। আগামী রোববার রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৯ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা। সংক্ষিপ্ত এ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ন্যাপের আমেনা আহমেদ, জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরীন আখতার প্রমুখ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর বাইরে ওবামা পÍী মিশেল ওবামার নৈশভোজে যোগ দেয়ার কথাও রয়েছে শেখ হাসিনার।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রাক্কালে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর এ ধরনের উদ্যোগে সরাসরি নেতিবাচক মনোভাব জানানো হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ফোন করে নিউইয়র্কে তাদের মধ্যস্থতায় এ বৈঠকের প্রস্তাব দেন। এর আগে মে মাসের প্রথম সপ্তায় সংলাপের তাগিদ দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছিলেন। একই সময় (১০ মে) সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো। এরপর গত ২৩ আগস্ট জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন টেলিফোনে বাংলাদেশের দু’নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।

নির্বাচন প্রশ্নে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সমঝোতায় রাজি করানোর উদ্দেশ্যে সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চিঠি দেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে। তারা প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, নির্বাচন কমিশন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উদ্দেশ্য একটাই বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম, এসএস, জের, ২০.০৯.২০১৩


Comments are closed.