>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

স্লিভলেস

উম্মে মুসলিমা

Sleeveless abstractআমি উচ্চারণ করতাম বাসোনা। কিন্তু ওর মা বলত, নাথ বাস্না। মানে সোন্দর ঘিরান। ওর দাদির দেয়া নাম। হয়তো শিক্ষিত মানুষ হলে নাম রাখত সুবাসিনী। তো বাস্নাকে নিয়ে ওর

মা আমার বাসায় আসে, সেই যখন আমার মেয়ে রিমির বয়স ৪। বাস্নার তখন তিন-টিন। অথবা চারও হতে পারে। ওজনে-উচ্চতায় আমার রিমির অর্ধেক। বাস্নার মাকে পেয়ে যেন

আকাশের চাঁদ পেলাম। একটা সংস্থায় বেশ ভালো মাইনের চাকরি আমার। টুর-ফুর দেদার। রিমিকে দেখে রাখার লোক নেই। রিমির বাবা সাংবাদিক। তার কাজের কোনো

টাইমটেবিল নেই। আমারই এক ছোটবেলার বন্ধুর গড়া ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখতে হতো রিমিকে। কিন্তু সেটা আমার অফিস থেকে একেবারে উল্টোদিকে। সকালে ওর বাবা ওকে

রেখে আসত। বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে আমি নিয়ে আসতাম। বাসায় ফিরে আমি চিৎপাত। ইচ্ছে হতো না রান্নাবান্না-ঘরকন্নার। স্বামী ফিরত রাত দুপুরে। তার তো টেবিলে

খাবার চাই। ‘ধুত্তরি! চাকরির নিকুচি করি’ বলে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই যাচ্ছিলাম। তখন দেবদূতের মতো বাস্নার মা আর বাস্না হাজির। ওরা আমাদের গ্রামেরই। নিজের খেয়ে বনের

মোষ তাড়ানো আমার এক চাচা ওদের দিয়ে গেল। দিয়েই লাপাত্তা।

রিমি ঘরেই খেলার সাথী পেয়ে গেল। রান্নাবান্নার বিরক্তিকর একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হলাম। বাস্নার মার রান্না তরকারিতে আমার ছোটবেলার স্বাদ-গন্ধ পেয়ে আমি যত উচ্ছ্বসিত হই,

আমার স্বামী ততটাই অরুচিময় মুখভঙ্গি করে গিলতে থাকে। বুঝি। এ হচ্ছে সাংস্কৃতিক দূরত্ব। ওর এক দূরসম্পর্কের বোন এসে কিছুদিন ছিল আমাদের বাসায়। তার রান্না খেয়ে আমি

বাথরুমে গিয়ে কাঁদতাম। আর ক’দিনেই মাসুমের ভুঁড়ির লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। আমি না পেরে একদিন বলেওছিলাম, ‘আসলে বিয়েটা একই অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে হওয়া

উচিত। খাওয়া-দাওয়ার সংস্কৃতিটাকে কোনো অংশেই খাটো করে দেখা ঠিক না।’
‘আজকাল আর এক অঞ্চল! এশিয়ানরা বিয়ে করছে আফ্রিকান, আমেরিকানরা বিয়ে করছে এশিয়ান। যেখানে বিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় হয়ে যাচ্ছে, সেখানে তুমি পড়ে আছ অঞ্চল নিয়ে।’
‘এই জন্যই তো ওদের মধ্যে এত ডিভোর্স।’
‘খাপ খাইয়ে নিতে পারে প্রকৃত শিক্ষিতরাই।’
‘বেশি জ্ঞান দিও না।’
এখন দক্ষিণাঞ্চলের বাস্নার মার রান্না খেয়ে পূর্বাঞ্চলের মাসুম কতদিন শিক্ষিত থাকতে পারে, তা অবশ্য দেখার বিষয়।

বারান্দার খেলাঘরে বসে রিমির কেবল হুকুম থ বাস্না, যা। কিচেন থেকে তরকারির খোসা নিয়ে আয়। যা, এবার আটা গুলে দুধ বানা। খেলনা পাতিল গুছিয়ে রাখ। বাস্না প্রতিবাদহীন

সব কাজ করে চলে। আবার একটু দেরি হলে রিমির বকাঝকা থ এত সময় লাগলে আমার রান্না কখন হবে? মা-বাবা না খেয়েই তো অফিস চলে যাবে। আমার মায়া লাগে, ভয়ও

লাগে। আমার মেয়েটা কি শোষকদের পক্ষের হয়ে বড় হয়ে উঠছে? নাকি আমাদের আচরণই নকল করছে? বাস্নার মাকে আমরা যেভাবে হুকুম করি, রিমিও বাস্নার সাথে সেভাবেই

অভিনয় করছে। কিন্তু রান্নাবাটি খেলতে গিয়ে রিমি যখন মিছিমিছি বাস্নার কপালে জলপট্টি দেয় তখন মনটা নরম হয়ে আসে। নাহ্্, মেয়েটা আমার মানবিকই হবে। কিন্তু বাস্না তো

রিমির পুরনো কাপড় পরেই বড় হয়। ঈদে-পার্বণে নতুন জামা পেলেও তা রিমির জামার দামের চেয়ে অনেক কম। মাসুম অবশ্য এ ব্যাপারে বেশ হৃদয়বান। একমাত্র খাওয়ার বিষয়টা

ছাড়া বাস্না আর বাস্নার মায়ের প্রতি সে উদার।

বাস্নার এসএসসি। রিমির এ লেভেল। রিমি বিছানায় উপুড় হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে থাকে। বাস্না ওর ঘর গুছিয়ে দেয়। একসাথে বড় হলেও ওরা কিন্তু একে অন্যের ঘনিষ্ঠ নয়। রিমি তার

লেখাপড়া, বন্ধুবান্ধব, মুভি, কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। বাস্নার সাথে কথা হয়থ
‘বাস্না, এই নে। তোর জন্য আনলাম।’
‘ওমা! কী সুন্দর গো আপু দুল দুটো! তুমি একদিন প’রে আমাকে দিও।’
‘আরে দূর! ওসব দুলটুল আমার ভাল্লাগে না। তোর লম্বা চুল। কানে দুল ভারি মানাবে।’
আমিও চুল ছোট করে কেটে রাখি। মাসুমের ভারি আপত্তি। মেয়েদের নাকি লম্বা চুলে মেয়েলি দেখায়। বেটা বেটা মেয়েদের ওর ভাল্লাগে না। একবার পারলারের মেয়েরা আমার চুল

বেশি ছোট করে দিয়েছিল। আমি তো ক্লিপ-টিদ্মপ দিয়ে মাসুমের সামনে ঘুরি। জানি, খুলে দিলেই একচোট রাগারাগি করবে। একটু বড় হোক তখন দেখলে চোখে লাগবে না। আরে

বাবা, আমি তো আগাগোড়াই এ রকম। কই, বিয়ের আগে দু’বছর প্রেম করেছ, তখন তো কিছু বলোনি। বউ হয়ে আসার পরে কত নিষেধাজ্ঞা!
মনে আছে, তখনও রিমি হয়নি। রাতের একটা অনুষ্ঠানে আমি স্লিভলেস ব্লাউজ পরে যাব, ঠিক করেছিলাম। প’রে-ট’রে রেডি। মাসুমের জমে থাকা রাগ বিস্টেম্ফারিত হলো।

‘শরীর দেখানো কোনো স্টাইল হতে পারে না।’
‘কিন্তু আমি তো আগাগোড়াই ফ্যাশন-সচেতন, তুমি জানো।’
‘আমার ভালো লাগাকে তোমার দাম দিতে হবে।’
‘নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে?’
‘ওই সব ফ্যাশনেই অনেক কিছু বিসর্জন হয়ে যায়।’
‘তোমাকে অনেক আধুনিক ভাবতাম।’
‘আধুনিকতা আর বেলেল্লাপনা এক না।’
‘আমার ভেতর বেলেল্লাপনা দেখ তুমি?’
‘না, কিন্তু কেউ তোমার বগল বের করা হাত দুটো গিলবেথ আমি তা চাই নে।’
আমি সে অনুষ্ঠানে আর গেলাম না। মাসুমও জোর করেনি। কিন্তু কেন জানি আর কোনোদিন স্লিভলেস পরতে ইচ্ছে হয়নি। কিংবা মনে হয়েছে, মাসুমই বোধ হয় সঠিক। রিমি কিন্তু

অনেক ফ্যাশনেবল কাপড়চোপড় পরে। মাসুম মেয়েকে বলেথ
‘বাহ্্, এ ড্রেসটাতে তোকে ভারি মানিয়েছে তো মা!’
রিমি ‘হুঁ হুঁ বাবা। দেখতে হবে তো কার মেয়ে’ বলে মায়ের দিকে আঙুল তোলে।

বাস্নার মায়ের জোরাজুরিতে বাস্নার বিয়ে দিতে হলো। ম্যাট্রিক পাস করে গেলে নাকি মেয়ের আর বিয়ে হবে নাথ এ আশঙ্কায় বাস্নারই এক দূরসম্পর্কের মামাতো ভায়ের সাথে বাস্নার

বিয়ে হলো। আমি আর মাসুম যাবতীয় খরচ বহন করলাম। রিমি নিজে গিয়ে বাস্নার জন্য বিয়ের কেনাকাটা করল। গ্রামে বিয়ে দিয়ে এসে বাস্নার মা ঝিম ধরে থাকে। মেয়ের জন্য

খারাপ লাগতেই পারে। মা-মেয়ের মোবাইল আছে। রিমিরই দুটো পুরনো সেটে সিম ভরে দিয়েছি আমি। বাস্নার মা মেয়ের ফোন পেয়ে কান্নাকাটি করে। আমি কিছু বলি না। মেয়েকে

দূরে রেখে মায়ের কেমন লাগে শুধু তা পর্যবেক্ষণ করি। কারণ আমাকেও একদিন এ পর্যায়ে পৌঁছতে হবে। রিমিরও তো বিয়ে হবে। ওহ্্, মেয়েকে ছেড়ে থাকব কীভাবে! তারপরেও

সব সময় বাস্নার মার ঘ্যানর-ঘ্যানর শুনে মাসুম বিরক্ত।
‘আরে বাবা, মেয়েদের বিয়ে তো দিতেই হবে। তোমাদেরই আত্মীয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছ। এত কান্নাকাটির কী আছে?’
‘একবার জামাইসহ বাস্নাকে আসতে বলতে হয়’থ বললাম নিচু গলায়।
‘তা বললেই তো পারে। সব সময় প্যানপ্যানানি বিচ্ছিরি লাগে।’
‘প্যানপ্যান করল কোথায়? তোমার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে আমার খারাপ লাগবে না?’ থস্বজনপ্রীতি। বুঝল মাসুম।
‘বলে দাও, ক’দিন বেড়িয়ে যাবে। বেড়িয়ে যাওয়ার পরে যেন আর এ রকম না করে।’

জামাই সাথে করে বাস্না এলো। এসেই আমার গলা জড়িয়ে ধরে কান্না। রিমি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাস্নাকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটা তখনও কাঁদছে। শার্ট আর স্কার্ট পরা রিমির

দিকে কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল জামাইটা। রিমি তার ঘরে চলে গেল। ওর মা জামাইয়ের খাতির-যতেœ অস্থির হয়ে পড়ল। বাস্না কাপড়চোপড় না খুলেই রিমির আলমারি

খুলে সব কাপড় মেঝেতে ফেলে গুছাতে বসল। ওর বইপত্র ঝেড়ে-মুছে ঘরটা এক ঘণ্টার মধ্যে মিউজিয়াম বানিয়ে দিল। বাস্না যাওয়ার পর একদিন কোনো রকমে গুছিয়েছিল রিমি।

ঢুকে দেখলাম ঘরটা ঝকঝক করছে।
‘নিজের ঘর নিজে গুছিয়ে রাখো না রিমি। ও কি আর মাসে মাসে এসে তোমার ঘর গুছিয়ে দিয়ে যাবে?’
‘ওতেই আমার চলে যায় মা।’
‘আমরা তোমাদের বয়সে রোজ পুরো বাসা গুছাতাম। একেক বোন একেক দিন। আর তোমরা নিজেরটারই যতœ নাও না।’
‘জ্ঞান দিও না মা, আমার মাথা ধরেছে।’
বুঝলাম, বাস্নার বরের অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে রিমি ভেতরে ভেতরে ক্ষেপে আছে।
‘কিরে, সুখী হয়েছিস?’থ বাস্না ঘর গুছিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রিমির জিজ্ঞাসা।
‘হাজবেন্ড ভালো?’থ বলে এই প্রথম গভীরভাবে বাস্নার দিকে তাকাল রিমি। রিমির গায়ের রঙ বেশ পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু মুখটা ম্লান। চোখের নিচে জাগরণের ক্লান্তি।
‘হ্যাঁ, ভালোই তো।’
‘এসএসসিটা দিবি না?’
‘ওরা চায় না।’
‘ও’।
আমি বেশ চিন্তিত বাস্নাকে নিয়ে। ওর মুখ দেখে আমার ভালো লাগেনি। জামাই কালামকে বললাম মাসখানেকের জন্য বাস্নাকে রেখে যেতে। সে শুনল। মাসুম কালামকে একটা

গার্মেন্টে ঢুকিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিলে সে খুশিমনে বাড়ি গেল। আমি পরদিনই আমাদের এলাকায় একটা সৌন্দর্য সেবাকেন্দ্রে বাস্নাকে ভর্তি করিয়ে দিলাম। একটা প্রশিক্ষণ থাকলে

মেয়েটা ভবিষ্যতে কিছু করে খেতে পারবে। বাস্নার মাও যেন স্বস্তি পেল খানিক। রিমি তো আনন্দে বাস্নাকে জড়িয়ে ধরল।

বাস্না প্রশিক্ষণ শেষ করে একটা বিউটি পারলারে চাকরি নিল। কালামকেও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি পাইয়ে দিল মাসুম। মাসদুয়েক পর ওরা একটা বাসা ভাড়া করে উঠে গেল। আমি

সাধ্যমতো ওদের সংসার গুছিয়ে দিলাম।
‘বাস্নাকে রিমির চেয়েও অ্যাকটিভ মনে হয়’থ মাসুম আক্ষেপের সুরে বলল।
‘হবে না? তোমার মেয়েকে তো বাস্নাই নুলো করে দিয়েছে। কীভাবে যে সংসার করবে মেয়েটা!’
‘কেন সংসার করার পূর্বলক্ষণ টের পাচ্ছ নাকি?’
‘বন্ধুবান্ধব তো আছেই।’
‘বিশেষ?’
‘কে জানে! থাকলে আশ্চর্যের কী?’

বাস্না ওর মাকে নিয়ে গেছে কয়েক দিন ওর বাসায়। বাস্নার মা ওখানে গিয়ে স্বস্তি পায় না। তার নাকি দম আটকে আসে। তবুও মেয়ের বাসা বলে কথা।
‘কালামডা অ্যাট্টা হাড়কেপ্পন।’
‘কেন, তোমাকে ভালোমন্দ খেতে দেয় না? বাস্না নিজেও তো রোজগার করে।’
‘রুজগার করলি হবে কী? মাস পড়লি মাইনেডা ছোঁ মাইরি কাইড়ি নেয়।’
‘বাস্না দেয় কেন?’
‘স্বামীর ভাত খাতি হলি স্বামীর মতো চলতি হবে।’
‘ও তো আর স্বামীর ভাত খায় না।’
‘তা না খালি কী হবে? স্বামীর ঘর তো করতি হয়।’
আমি তো আর বলতে পারি নাথ কী দরকার স্বামীর ঘর করা? কিন্তু বাস্নাকে স্বনির্ভর করার যে গোপন বাস্না আমার ছিল, সে গুড়ে বালি। যাক। যেভাবে পারুক থাকুক। তার ওপরে

বাচ্চা এসেছে পেটে। আমরাই বাচ্চার মুখ চেয়ে ইচ্ছে থাকলেও সংসার ত্যাগ করতে পারি না। পরের বাড়িতে মানুষ হওয়া বাস্নার সে শক্তি কোথায়?

এবার বাস্না এলো অন্য চেহারায়। কালো মোটা বোরকা, মাথায় আঁটো করে কালো কাপড় বাঁধা। তার ওপরে ওড়নার ঘোমটা। পেট বোঝা যাচ্ছে। গরমে ঘেমে একসা। আমি দ্রুত

ফ্যান ছেড়ে দিলাম। বললাম, ওসব ছেড়ে একটু গায়ে বাতাস লাগা। সে একবার কালামের দিকে তাকিয়ে ওড়না সরাতে গিয়েও সরালো না। জিন্স-ফতুয়া পরা রিমি ছুটে এসে ওকে

জড়িয়ে ধরে বললথ
‘ওয়াও! কংগ্রাচুলেশনস বাস্না। কিন্তু শরীরের এ অবস্থায় এত জবড়জঙ হতে কে বলেছে? খুলে ফেল সব।’
‘আহা, থাক না। ওকে ওর মতো চলতে দাও’থ আমার কথায় কালামের মুখ উজ্জ্বল হলো।
অনেক কিছু রান্না করেছিল বাস্নার মা। কিন্তু বাস্না তেমন কিছুই খেতে পারল না। বুঝলাম, গরমে ওর রুচি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবু যাওয়ার সময় টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার দিয়ে

দিলাম।

রিমি অনার্স শেষ করেছে। যে মেয়ে বেলা বারোটার আগে ঘুম থেকে উঠতো না, সে একটা সেলফোন কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরিও পেয়েছে। মাসুম বলে থ মেয়েটা আমার

চৌকস। আমি বলি থঘরে তো কুটো ভেঙে দুটো করে না। চাকরির ধকল সইবে তো? বাবাকে ও কিছু না বললেও ক্লাসমেট কুশলের সাথে ওর দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্কের কথা

আমাকে জানিয়েছিল। ইদানীং বাইরে পড়তে যাওয়া নিয়ে খুব ব্যস্ত। স্কলারশিপের চেষ্টা করছে, জিআরই দিচ্ছে। ইউএসএতে একটা মোটামুটি স্কলারশিপ নাকি জোগাড়ও করে

ফেলেছে। সেদিন রাতে খাবার টেবিলে মাসুমই তুলল প্রসঙ্গথ
‘তোমার মায়ের কাছে শুনেছি। আমরা চাচ্ছি বাইরে যাওয়ার আগে বিয়েটা সেরে ফেলো।’
‘বিয়ে? কার সাথে!’থ যেন আকাশ থেকে পড়ল রিমি।
আমি বললাম থ ‘কেন? কুশল।’
‘কুশলের সাথে তো আমার কবেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে।’
‘এত দিনের সম্পর্ক..’
‘মা, ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কারও সাথে সম্পর্ক চিরস্থায়ী করার শিক্ষা আমার নেই।’
আমরা চেয়ে ছিলাম ওর দিকে। কী হয়েছিল জিজ্ঞাসা করলে যদি আবার ওর ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে ভেবে কেবল চেয়েই থাকলাম। যদি দয়া করে বলে।
‘যাত্রা’য় একটা স্লিভলেস জামা আমার পছন্দ হয়েছিল। ও সেটা কিনতে আগ্রহ দেখায়নি’থ বলে মোবাইল বেজে উঠলে রিমি কথা বলার জন্য এঁটো হাতেই উঠে গিয়ে তার ঘরের

দরজা দড়াম করে লাগিয়ে দিল। হ

-পুনঃপ্রকাশ

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
২৬.০৭.২০১৩


Comments are closed.