>> ব্রিটেনের ম্যানচেস্টারে কনসার্টে বোমা বিস্ফোরণে ১৯ জন নিহত >> সোমবার আবার সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া >> ইয়েমেনী বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সৌদি এফ-১৫ জঙ্গী বিমান ভূপাতিত করেছে >> ইদলিবে আহরার আল-শামের সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৪৫

পাবনা ও পাকশীতে পর্যটকদের ভিড়

রফিকুল ইসলাম সুইট, পাবনা

Lalon and harginge Bridgesপাবনা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং ঈশ্বরদী থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে পাকশী এলাকায় সারা বছর দেখা যায় পর্যটকদের ভিড়। তাই পাকশী এলাকা হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রীজ, মেরিন পাড়া, লালন শাহ্ সেতু, বেনারসী পল্ল¬ী, পদ্মা নদী, নৌকা ভ্রমণ, রূপপুর পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্র, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস এবং নদীর দু’পারে সবুজের সমারোহেÑ এসব পর্যটকদের আকর্ষণ করে ভ্রমণ পিপাসুদের।

প্রবাহমান পদ্মার উপর রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ রেল সেতু এবং পাশেই রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। আর এই দুই সেতুর নিচে নৌকা ভ্রমণে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়। এখানে রয়েছে প্রায় একশত নৌকা যে কোন পর্যটক এই নৌকা ভাড়া নিয়ে পদ্মা নদীতে ভ্রমণ করতে পারে। পদ্মার পাড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল গাছের বাগান। আরো রয়েছে পিকনিক স্পট।

পাকশী দেশের একটি অন্যতম ব্রডগেজ রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশন থেকে একটু উত্তরে গেলে রেলওয়ে অফিস আর মেরিনপাড়া রেলওয়ে কলোনি চোখে পড়বে। মেরিনপাড়ার মূল সৌন্দর্য রেলওয়ে কলোনির সুদৃশ্য ভবন আর এখানকার অফিস। কলোনির ভেতর পিচঢালা পথ আর বিশাল বিশাল সব রেইনট্রি গাছ দিয়ে শোভিত। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের পাশে রয়েছে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে রূপসা বাগেরহাট সেকশনে চালু হওয়া প্রথম ন্যারোগেজ ট্রেন-ইঞ্জিনটি। তার পাশেই আছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় নিক্ষিপ্ত বোমার অংশবিশেষ। রেলকলোনি মাঠটিও রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের পাশে। এক সময় কলকাতার বড় বড় ক্লাব এই মাঠে ফুটবল খেলে গেছে। আছে বাবুপাড়া, মুন্সিপাড়া। এখানে রেস্টহাউস আছে দুটিÑ একটি অফিসার্স রেস্টহাউস, অন্যটি ভিআইপি রেস্টহাউস। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে যে কেউ এখানে থাকতে পারেন। ঈশ্বরদীতে দেখার আছে নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল, ইপিজেড ও সাড়াঘাট। এর ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অচল হয়ে পড়ে আছে নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের পাম্পহাউস। এখানে তালতলা মোড় থেকে একটু সামনে সাড়াঘাট যাওয়ার পথে পড়বে বটতলা মোড়, যা সিভিলহল্ট নামে পরিচিত। পাঁচ শহীদের মোড় আর শহীদপাড়ার গণকবরটি ইতিহাসের সাক্ষী। তা ছাড়া ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী হয়ে আছে রূপপুর বাজার। রূপপুর বাজার বললে এখন আর কেউ চেনে না। রূপপুর বাজার বিখ্যাত বিবিসি বাজার নামে পরিচিত। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এখানে কড়ইগাছের নিচে মোল্ল¬ার চায়ের দোকান ছিল। পুরো নাম আবুল কাশেম মোল্লা। যুদ্ধের সময় কাশেম মোল্লার একটি তিন ব্যান্ডের ফিলিপস রেডিও ছিল। সেই রেডিওতে মুক্তিকামী মানুষ বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, কলকাতা বেতার আর স্বাধীন বাংলা বেতারের খবর শুনতে জড়ো হতেন। মূলত শ্রোতারা বিবিসির সংবাদ শোনার আশায় এখানে ছুটে আসতেন। সেই থেকে মুখে মুখে এলাকার নাম বিবিসির বাজার হয়ে যায়। সেই কড়ইগাছের নিচে এখনো আছে কেটি চায়ের দোকান, যেখানে আগের মতোই প্রতিদিন আড্ডা জমে। রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্র ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান।

ঈশ্বরদীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হচ্ছে বৃহৎ এখানকার বেনারসী পল্লী¬। রেল কলোনীর পাশে ফতেহ মোহাম্মদ এলাকার বেনারসী পল্লীসহ পুরো ফতেহ মোহাম্মদ এলাকার ঘরে ঘরে রয়েছে বেনারসীর তাঁত। বেনারস সংস্কৃতি এবং প্রাচীন জনপদ হিসেবে অনবদ্য হয়ে আছে ঈশ্বরদীর মানুষ। পাকশী লিচু এবং কুল চাষের জন্য বিখ্যাত লিচুর বাগান ও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এবং বাস ও রেল পথে নির্বিঘেœ আসতে পারে উত্তর এবং দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ পাকশীতে। কুষ্টিয়া শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ঘরে পাকশী। এখানে পর্যটকদের বেড়াতে কোন সমস্যা হয় না। পর্যটকরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারেন। এছাড়াও থাকার জন্য পাবনা শহরে এবং ঈশ্বরদীতে অনেক হোটেল রয়েছে।

কুষ্টিয়া শহর থেকে আসা পর্যটক বিকাশ কুমার জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এ জায়গায় আসা খুব সহজ তাই আমরা কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় আসি স্বপরিবারে এবং বন্ধুদের সাথে। ডাঃ খাইরুল ইসলাম বাসিদ নামের আরো একজন পর্যটক জানান, অনেকগুলো দেখার মত স্থান এখানে আছে তাই সময় পেলেই আমরা এখানে ছুটে আসি। ইমরোজ খন্দকার বাপ্পী জানান, এসব এলাকায় সরকার একটু নজর দিলে একটি সুন্দর পর্যটন এলাকা বানাতে পারে।

পাবনা জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাকশীতে রুপপুর পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্রের কাজ চলছে এজন্য এ এলাকাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা যাবে কিনা এ বিষয়টি যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

-বাসস

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
১৬.০৬.২০১৩


Comments are closed.