>> সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে হাওড়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ >> সুনামগঞ্জের পাকনা হাওড়ের বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে >> দেশের অভ্যন্তরীণ নদী-বন্দরসমূহের জন্য ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত >> ভারতের ঝাড়খন্ডে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৮ আহত ৫৫

পার্বত্যাঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ঝিরি-ছড়া-ঝর্ণা

এ কে এম জহুরুল হক, রাঙামাটি

Richang-Jharnaপার্বত্যাঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি ঝিরি-ছড়া-ঝর্ণা। একটা সময় এখানে শত শত পাহাড়ি ছোট বড় ঝর্ণা, ছড়া, ঝিরিগুলো পরিবেশের জন্য একে অপরের পরিপূরক ছিল। কিন্ত এখন কালের পরিবর্তনে সময় বদলে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত ও বৃক্ষ নিধনের প্রভাবে ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের অজস্র ছড়া, ঝর্ণা ও ঝিরি। কেবল ছোট ছোট ছড়া বা ঝর্ণাই নয়, প্রায় মরতে বসেছে বিখ্যাত গিরি নির্ঝর সুবলং ঝর্ণাও। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সুবলং ঝর্ণাকে ঘিরে পার্বত্যাঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। শহর থেকে ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবলং ঝর্ণা। প্রত্যন্ত বরকল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান এই ঝর্ণার। ইতোমধ্যে এর দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি ঘটেছে। এ পাহাড়ি ঝর্ণার শীতল ও চঞ্চলা জলধারা সব পর্যটককেই কাছে টানে। ঝর্ণাগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ নৈসর্গিক সৃষ্টি।

সমগ্র রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি ঝর্ণা থাকলেও নয়নাভিরাম সব ঝর্ণার সমাবেশ বরকলের সুবলংয়েই দৃশ্যমান। কল-কল ঝর্ণাধারার পানিতে গা ভিজিয়ে আনন্দে হারিয়ে যেত অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু পর্যটক। গিরি নির্ঝর বড় ঝর্ণাটিসহ কাছাকাছি রয়েছে আটটি ঝর্ণার সমাবেশ। এ ঝর্ণাকে কেন্দ্র করে বরকল উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলেছে পর্যটন স্পট। প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু এ ঝর্ণার বর্ষাকালে অবিরাম জলধারার পতনে অপরূপ দৃশ্য সৃষ্টি করে। তবে শুস্ক মৌসুমে ঝর্ণার জলধারা শুকিয়ে যায়। একটা সময় সুবলং যাওয়ার পথে অসংখ্য ছোট-বড় ঝর্ণা দেখা যেত তা এখন কেবল স্মৃতি।

জানা গেছে, ছড়াকে কেন্দ্র করেই এক সময় গড়ে উঠেছিল ছোট ছোট আদিবাসী পাড়া। তাই পাহাড়গুলোর নামও ঝিরি, ঝর্ণা কিংবা ছড়াকেন্দ্রিক নামে পরিচিত যেমন চোংড়াছড়ি, বড়ইছড়ি, কুতুবছড়ি, বগাছড়ি, মঘছড়ি, মানিকছড়ি, সাপছড়ি, বিলাইছড়ি ও ঠাকুরছড়া ইত্যাদি। শুধু পাড়ার নাম নয়, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার নামও ছড়াকেন্দ্রিক যেমন, মহলছড়ি, মাইচ্ছড়ি,খাগড়াছড়ি, সিন্দুকছড়ি ও বরুনাছড়ি। রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটা দুরের গ্রাম মগবান। এ গ্রামের এখন আর আগের মতো ছড়া-ঝর্ণা, ঝিরি নেই। রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের সামনে ছড়া, কাপ্তাই যাওয়ার পথে তংচঙ্গ্যা পাড়ার সামনে দেবতাছড়া, বান্দরবান থেকে রুমা যাওয়ার পথে প্রায় ২৯টি ছোট-বড় ছড়া ও ঝর্ণা, রুমা উপজেলায় লুংঝিরি, খাগড়াছড়ি জেলায় ঠাকুরছড়া, আলুটিলাসহ এমন অনেক ছড়া পাওয়া যাবে যা বর্তমানে মৃত। আবার রাঙামাটি থেকে মহলছড়ি যাওয়ার পথে বগাছড়ি, কুতুবছড়ি, মানিকছড়ি, মহালছড়ি উপজেলায় চোংড়াছড়ি, সিন্দুকছড়ি, মাইচ্ছড়ি ও মুবাছড়ি ছাড়া। একসময় পাহাড়ি গ্রামের মানুষগুলো এসব ঝিরি দিয়ে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় পণ্য পরিবহন করত কিন্তু এখন তা শুধুই কল্পনা।

-বাসস

বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম
০৬.০৫.২০১৩


Comments are closed.